১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৩৭ সোমবার বসন্তকাল
আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রথা ভেঙে বন্ধুর জন্য এক নজিরবিহীন আবদার জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ‘সম্পূর্ণ ক্ষমা’ প্রদর্শনের জন্য তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগকে সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছেন, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের সামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রেসিডেন্ট হারজোগের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এই চিঠিতে ট্রাম্প কেবল বন্ধুত্বের খাতিরে এই অনুরোধ করেননি, বরং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে একটি “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “অন্যায়” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে ইসরায়েলের জন্য একজন “দুর্দান্ত ও નિર્ણায়ক” নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি দেশকে শান্তির পথে নিয়ে গেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, এই বিচারিক প্রক্রিয়া হলো এক ধরনের “ল-ফেয়ার” বা আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে যুদ্ধ, এবং নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার মাধ্যমেই ইসরায়েলে প্রকৃত ঐক্য ফিরে আসবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের এই আবেগঘন অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ক্ষমার আবেদন একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে আসতে হবে। এর অর্থ হলো, খোদ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমার জন্য আবেদন করতে হবে, যা তিনি এখন পর্যন্ত করেননি।
এই ঘটনা একটি জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। একদিকে, নেতানিয়াহু শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন এবং আদালতে বিচারিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমার আবেদন করার অর্থ দাঁড়াতে পারে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়া, যা তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হবে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অনেকেই একটি দেশের বিচারিক স্বাধীনতার ওপর বিদেশি শক্তির প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের এই চিঠি তাই কেবল দুই নেতার ব্যক্তিগত রসায়ন নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং একটি দেশের বিচারিক সার্বভৌমত্বের মধ্যকার এক জটিল টানাপোড়েনের জন্ম দিয়েছে, যার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
Analysis | Habibur Rahman


