.
জাতীয়

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি—অতিরিক্ত মজুদের আড়ালে লুকানো সংকট

Email :4
coal handling in a port

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস। কিন্তু এই খনিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য—উৎপাদন চলছে পুরোদমে, অথচ ব্যবহার হচ্ছে তার খুবই সামান্য অংশ।

প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হলেও তাপ-বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৭৫০ টন। ফলে খনির ইয়ার্ডে জমে উঠছে বিশাল কয়লার পাহাড়। যেখানে ধারণক্ষমতা মাত্র ২ লাখ ২২ হাজার টন, সেখানে মজুদ এখন ৫ লাখ টনেরও বেশি।

প্রশ্ন উঠছে—এই অতিরিক্ত কয়লা কোথায় যাবে?

একসময় বড়পুকুরিয়া তাপ-বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিট চালু থাকায় প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার টন কয়লার চাহিদা ছিল। কিন্তু এখন চালু রয়েছে মাত্র একটি ইউনিট। ফলে চাহিদা কমে গেছে তিনভাগের একভাগে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের পর থেকে কয়লার একমাত্র ক্রেতা নির্ধারণ করা হয়েছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। আগে খোলাবাজারে বিক্রির সুযোগ থাকলেও এখন সেই পথ বন্ধ। ফলে উৎপাদিত কয়লার বড় অংশ পড়ে থাকছে অব্যবহৃত।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—উৎপাদন কেন বন্ধ করা হচ্ছে না?

খনি কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির কারণে উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়। মাঝপথে কাজ থামালে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের কারিগরি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি।

এই পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছে নতুন বিপদ। দীর্ঘদিন স্তূপ করে রাখা কয়লায় স্বতঃস্ফূর্ত আগুন লাগছে। পুড়ে যাচ্ছে মূল্যবান সম্পদ। উঁচু স্তূপে ধসের আশঙ্কাও বাড়ছে, যা যে কোনো সময় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

এদিকে খনি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বলছে, উৎপাদন কমানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। খনি বলছে, নিয়মিত কয়লা না নেওয়ার কারণেই এই সংকট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত সমন্বয়হীনতার ফল।

তবে সামনে কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। বন্ধ থাকা একটি ইউনিট মে মাসে চালু হলে কয়লার চাহিদা বাড়তে পারে। তখন হয়তো এই অতিরিক্ত মজুদ কিছুটা কমবে।

কিন্তু ততদিনে প্রশ্ন থেকেই যায়—পরিকল্পনার অভাবে কি ধীরে ধীরে ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts