১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি রাত ২:০৯ মঙ্গলবার বসন্তকাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার মাঝেই ফেনী-২ (সদর) আসনে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মঞ্জুর একটি নির্বাচনী কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের ইজ্জতপুর গ্রামে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলায় কার্যালয়ের আসবাবপত্র তছনছ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনাস্থলের বিবরণ ও দলীয় অভিযোগ
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন নির্বাচনে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সম্প্রতি ইজ্জতপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সেখানে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা নিয়মিত বৈঠক ও প্রচারণার কাজ চালাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় কর্মীদের ভাষ্যমতে, বুধবার মধ্যরাতে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে ওই কার্যালয়ে হানা দেয়। এ সময় তারা অফিসের ভেতরে থাকা চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে। অফিসের সামনে টানানো ফেস্টুন ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। সকালে স্থানীয়রা অফিসের টেবিলের ভাঙা অংশ ও এলোমেলো আসবাবপত্র বাইরে পড়ে থাকতে দেখেন।
প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
নির্বাচনী অফিসে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানান।
মঞ্জু বলেন, “আমি সবসময় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানে বিশ্বাসী। একটি নতুন নির্বাচনী অফিস চালু হওয়ার পর জনগণের ব্যাপক সাড়া দেখে প্রতিপক্ষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে রাতের আঁধারে এই কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সন্ত্রাস, অপরাজনীতি বা ভাঙচুর করে জনগণের কণ্ঠ কখনোই রুদ্ধ করা যায় না। বরং এতে সাধারণ মানুষের সমর্থন আমাদের প্রতি আরও বাড়বে।” তিনি দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশের ভাষ্য
ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। সেখানে একটি টেবিলের পাটাতন বাইরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং কিছু চেয়ার এলোমেলো অবস্থায় ছিল।”
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে ওসি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত প্রার্থীর পক্ষ থেকে বা স্থানীয়ভাবে কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনী পরিস্থিতি
নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা ভীতির সঞ্চার হয়েছে। তবে এবি পার্টির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, হামলা-মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া যাবে না। তারা শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
Analysis | Habibur Rahman