
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে তারেক রহমান যাচ্ছেন ভারত। সম্ভাব্য এই সফর আগামী ১০ মে’র মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি।
ঢাকায় নিযুক্ত প্রণয় কুমার ভার্মা-র সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠকে সফর ও সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, সফরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
আলোচনায় থাকা বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ, গঙ্গা নদী-র পানিবণ্টন চুক্তি এবং জ্বালানি সহযোগিতা। বিশেষ করে সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদা পূরণে ভারত থেকে বাড়তি সরবরাহ চেয়েছে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নতুন সরকারের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক জোরদারে এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার। সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
এদিকে সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ড. খলিলুর রহমান ইতোমধ্যে ভারত সফর করেছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছেন। একাধিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রায় চূড়ান্ত এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
প্রাথমিকভাবে সফরসঙ্গী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একটি দলও সফরে অংশ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং অর্থনীতি, জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।