১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:১০ বুধবার বসন্তকাল
পারমাণবিক শক্তিকে ভবিষ্যতের জ্বালানি ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে তুরস্ক। দেশটির জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী Alparslan Bayraktar বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ছোট মডুলার পারমাণবিক চুল্লি বা এসএমআর প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে

মন্ত্রী জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে তুরস্ক মোট ১২টি প্রচলিত পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি সর্বাধুনিক এসএমআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বায়রাকতার বলেন, বায়কার ইতোমধ্যে ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এসএমআর ইউনিট তৈরি করার প্রাথমিক গবেষণা ও নকশা পর্যায়ে রয়েছে। এটি সফল হলে তুরস্ক প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে বড় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
এসএমআর খাতের জন্য আসছে নতুন আইন
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, আঙ্কারা খুব শিগগিরই পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন খসড়া আইন চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। এই আইনের আওতায় নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ তৈরির অনুমতি পাবে।
এ ছাড়া এই খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও নীতিগত প্রণোদনার ঘোষণাও দিয়েছে।
‘জাতীয় পারমাণবিক সক্ষমতা গড়তে হাজারো প্রকৌশলী দরকার’
বায়কারের চেয়ারম্যান Selçuk Bayraktar এর আগে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, নতুন জ্বালানি বাস্তবতায় পারমাণবিক শক্তি একটি বড় স্তম্ভ হয়ে উঠছে। তবে এই খাতে তুরস্ক এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“প্রধান প্রশ্ন হলো—তুরস্ক কীভাবে নিজস্ব জাতীয় পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরি করবে এবং স্বাধীনভাবে এই প্রযুক্তির উন্নয়ন করবে। এর জন্য হাজার হাজার প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।”
উল্লেখ্য, বায়কার তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। তাদের তৈরি যুদ্ধড্রোন Bayraktar TB2 সিরিয়া, আজারবাইজান, ইউক্রেন ও লিবিয়ার সংঘর্ষে কৌশলগতভাবে বড় প্রভাব রেখেছে এবং বিশ্বের বহু দেশে রপ্তানি হয়েছে।
থোরিয়ামভিত্তিক চুল্লিতেও আগ্রহ তুরস্কের
এসএমআর প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও তুরস্ক বিকল্প প্রযুক্তিতেও নজর দিচ্ছে। জ্বালানিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি থোরিয়াম-চালিত পারমাণবিক চুল্লি প্রস্তুতকারী ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Copenhagen Atomics পরিদর্শনের জন্য একটি সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তুরস্কে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ থোরিয়াম মজুত রয়েছে, যা ভবিষ্যতের নিরাপদ ও টেকসই পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পরীক্ষামূলক হলেও বিশাল সম্ভাবনার প্রযুক্তি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট মডুলার পারমাণবিক চুল্লি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং দ্রুত স্থাপনযোগ্য হলেও এতে বিপুল বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। তুরস্ক এই পথে সফল হলে স্বল্প-ব্যয়ে স্থায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন যুগে প্রবেশ করতে পারবে।
Analysis | Habibur Rahman