১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:২৯ সোমবার বসন্তকাল
শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে গেল এক লোমহর্ষক ঘটনা। আজ ছিল শেষ পরীক্ষা, তাই পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন এক কলেজছাত্রী। কিন্তু সেই বাড়ি ফেরা আর হলো না। প্রকাশ্য দিবালোকে, মানুষের চোখের সামনে দিয়েই ওই তরুণীকে টেনেহিঁচড়ে জঙ্গলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর আর্তনাদ, “এটা কি সমাজ? চোখের সামনে একটা মেয়েকে নষ্ট হতে দেখেও কেউ প্রতিবাদ করল না!”
ঘটনার বিবরণ:
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, পরীক্ষা শেষে দেরি হয়ে যাওয়ায় তার এক পরিচিত বন্ধু তাকে বাসায় নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তারা যখন বাইকে করে ফিরছিলেন, পথিমধ্যে একদল বখাটে তাদের গতিরোধ করে। প্রথমে তারা বাইক থামিয়ে জানতে চায় তারা কোথায় যাচ্ছে। এরপর কোনো কথা শোনার আগেই বখাটেরা চাপাতি বের করে ছেলে বন্ধুটিকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
এরপর শুরু হয় আসল নারকীয়তা। প্রায় ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র মেয়েটিকে ঘিরে ধরে। প্রথমে তারা ১০ হাজার টাকা দাবি করে। মেয়েটি যখন জানায় তার বাবা নেই এবং টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তখন তারা তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয় এবং কুপ্রস্তাব দেয়। এরপর জোরপূর্বক তাকে টেনে রাস্তার পাশের একটি জঙ্গলের (বাগান) ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়।
সবার সামনেই পৈশাচিকতা, দর্শকের ভূমিকায় সমাজ:
ঘটনাটি ঘটেছে একটি অফিস সংলগ্ন এলাকায়। ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাকে যখন জোর করে জঙ্গলে নেওয়া হচ্ছিল, তখন আশেপাশের অফিসের লোকজন এবং পথচারীরা তা দেখছিলেন। এমনকি দুইজন মহিলাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যারা মেয়েটির ওপর নির্যাতন হতে দেখেও কোনো শব্দ করেননি বা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি।
ভুক্তভোগী বলেন, “ওরা যখন আমাকে মারছিল, খারাপ কাজ করছিল, অফিসের লোকগুলা সব দেখছে। মহিলারাও দেখছে। কিন্তু কেউ আমাকে বাঁচাতে এল না। আজানের সময়ও ওরা থামেনি। তিনজন মিলে আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে।”
অপরাধীদের শনাক্তকরণ:
ভুক্তভোগী জানান, তিনি হামলাকারীদের নাম জানেন না, তবে দেখলে চিনতে পারবেন। চক্রটিতে মোট ১০ জনের মতো সদস্য ছিল, যার মধ্যে ৩ জন সরাসরি ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল এবং বাকিরা পাহারায় ছিল। বন্ধুটি ভয়ে পালিয়ে গেলেও মেয়েটিকে তারা ছাড়েনি।
শরীয়তপুরের এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সমাজের মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, “যে সমাজে চোখের সামনে একটা মেয়ে ধর্ষিত হয় আর মানুষ দাঁড়িয়ে দেখে, তাকে কি আদৌ সমাজ বলা যায়?”


