১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৩০ সোমবার বসন্তকাল
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ও শক্তিশালী বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ‘ছায়া উপদেষ্টা’দের ধারণা। সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ বা দায়িত্ব না থাকলেও, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কিছু নেতা হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ও নীতি নির্ধারণী চুক্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় এই বিষয়টি উঠে আসায় দেশের সুশীল समाज ও সচেতন মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোনো মন্ত্রী, এমপি বা সরকারি উপদেষ্টা না হয়েও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। তারা ತಮ್ಮ রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদসহ একাধিক বিশ্লেষক সম্প্রতি এক আলোচনায় উল্লেখ করেন, এই লেনদেনগুলোর আর্থিক حجم এতটাই বিশাল যে তা হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যায়। পর্দার আড়ালে থেকে এই প্রক্রিয়া সম্পাদনের ফলে তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা থাকে না।
এই ‘ছায়া উপদেষ্টা’দের কর্মকাণ্ডের ফলে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা এবং সুশাসন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যখন কোনো আনুষ্ঠানিক পদবিহীন ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই সিদ্ধান্তগুলো কি জনকল্যাণে নাকি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে? এর ফলে একদিকে যেমন একটি অদৃশ্য শক্তিশালী চক্র তৈরি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দলের ভেতরে ও বাইরে নিজেদের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করছেন। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে নীতি-আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব এবং আর্থিক সক্ষমতাই মুখ্য হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং সুষম উন্নয়নের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ভেঙে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে, সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ।
Analysis | Habibur Rahman


