১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৭ সোমবার বসন্তকাল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই রাজধানীর বুকে গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে ‘ইস্পাতকঠিন ঐক্য’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (দুপুরে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরি এক বৈঠকে মিলিত হন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে প্রধান উপদেষ্টা দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে শুক্রবার তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর ঠিক পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। নির্বাচনের আগে অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে যখন অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ও বাকযুদ্ধ বাড়ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোকে এক টেবিলে আনার উদ্যোগ নিলেন।
বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আমরা ঐক্যের শক্তি দেখাতে চাই। এটিই হবে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমাদের মূল হাতিয়ার।’ তিনি আরও জানান, ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে আগামী দুদিন শাহবাগ ও শহীদ মিনারে যে প্রতিরোধ সমাবেশ ডাকা হয়েছে, সেখানে সব রাজনৈতিক দলকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস। বিএনপি এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার যদি মনে করে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন আটকে দেবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।’ তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকার এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এসব অপতৎপরতা মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিকে, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি এজেন্ডায় না থাকলেও, সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান—দলের পক্ষ থেকে নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হবে।
ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির মতে, সচেতনতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নির্বাচনকালীন এই সহিংসতা রোধ করা সম্ভব।
Analysis | Habibur Rahman
