১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:৪৫ বুধবার বসন্তকাল
নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে চট্টগ্রামে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠল আন্ডারওয়ার্ল্ডের রক্তক্ষয়ী সংঘাত। বুধবার রাতে বিএনপির এক প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেওয়ার সময় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে নগরীর কুখ্যাত সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলাকে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, এই হত্যাকাণ্ড নিছকই রাজনৈতিক হানাহানি নয়, বরং চট্টগ্রাম আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুটি শক্তিশালী গ্যাং— ‘বাবলা শিবির’ এবং **’ছোট সাজ্জাদ গ্রুপে’**র মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আধিপত্য বিস্তারের ‘ফাইনাল রাউন্ড’।
জানা গেছে, নিহত বাবলা নগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ অন্তত ১৯টি মামলার আসামি ছিলেন। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ইতিহাস সুবিদিত। দীর্ঘদিন ধরেই তার গ্রুপ এবং অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের মধ্যে এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে চরম বিরোধ চলছিল। তদন্তকারী সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই পুরনো দ্বৈরথের জেরেই ছোট সাজ্জাদের অনুসারীরা বাবলাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। বাবলার পিতা নিজেও সরাসরি ছোট সাজ্জাদের লোকজনকেই এই হামলার জন্য দায়ী করেছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বাবলা একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন, বিএনপি এই ঘটনায় নিজেদের সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, গণসংযোগে অসংখ্য সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিল। তবে, নির্বাচনী প্রচারণার মতো একটি জনবহুল মুহূর্তে এই ধরনের হাই-প্রোফাইল কিলিং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে মূল কারণ হিসেবে গ্যাং-দ্বন্দ্ব এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্তর্দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক সংযোগ থাকলেও, মূল মিশনটি ছিল বাবলার অপরাধ সাম্রাজ্যের ওপর আঘাত হানা। এই হত্যাকাণ্ড স্পষ্ট করে দিল, চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে এখনো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যেকার ক্ষমতার লড়াই কতটা ভয়াবহ এবং নৃশংস হতে পারে। এই ঘটনা স্থানীয় অপরাধ চক্রের নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Analysis | Habibur Rahman


