১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৭ সোমবার বসন্তকাল
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির উত্থানকে অনেকেই ‘অভাবনীয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আর এই বিস্ময়কর রাজনৈতিক যাত্রার শুরু থেকেই তাঁর অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাশে ছিলেন ভারমন্টের প্রবীণ স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। আগামী ১ জানুয়ারি, জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও সেই মিত্রতার দৃশ্য আবারও দেখবে বিশ্ব।

সিটি হলের সামনে জনস্রোতের অপেক্ষা
আগামী ১ জানুয়ারি সিটি হলের অদূরে আয়োজন করা হয়েছে মামদানির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তবে এটি কেবল দাপ্তরিক কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং একে ‘গণশপথ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মতাদর্শের দুই কাণ্ডারি—জোহরান মামদানি ও বার্নি স্যান্ডার্স—সেদিন একই মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। মামদানির প্রচার শিবির ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই উন্মুক্ত আয়োজনে প্রায় ৪০ হাজার সমর্থকের বিশাল সমাগম ঘটবে বলে তারা আশা করছেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই অনুষ্ঠানকে এক ভিন্ন মাত্রা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যরাতে গোপন স্থানে আনুষ্ঠানিক শপথ
পহেলা জানুয়ারির গণশপথের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের প্রায় ১৩ ঘণ্টা আগেই অবশ্য মামদানির মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। খ্রিষ্টীয় নববর্ষের ঠিক আগমুহূর্তে বা মধ্যরাতের লগ্নে এক একান্ত ঘরোয়া পরিবেশে শপথ নেবেন তিনি। তবে নিরাপত্তার খাতিরে বা গোপনীয়তা রক্ষায় এই শপথ গ্রহণের স্থানটি এখনো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস নবনির্বাচিত মেয়রকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। সেই অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সংবিধান এবং নিউইয়র্ক সিটির সনদ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করবেন। একই সঙ্গে তিনি মেয়রের গুরুদায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের শপথ নেবেন।
গণতন্ত্র ও শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে স্যান্ডার্সের বার্তা
জোহরান মামদানির এই বিজয়কে শ্রমজীবী মানুষের বিজয় হিসেবে দেখছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সোমবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যান্ডার্স জানান, শপথ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট এবং এর সংকোচন নিয়ে কথা বলবেন।
স্যান্ডার্স স্পষ্ট করেই বলেন, ‘দেশের শ্রমজীবী মানুষ এখন সঠিকভাবেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, সরকার আর তাদের স্বার্থে কাজ করছে না। বরং সরকার এখন ব্যস্ত নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থ জোগানদাতা বিত্তশালী গোষ্ঠী এবং অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণকারী শতকোটিপতিদের সেবা করতে।’
মামদানির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
প্রবীণ এই রাজনীতিক মনে করেন, মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির পথচলা খুব একটা সহজ হবে না। স্যান্ডার্সের ভাষায়, ‘জোহরানের কাঁধে এখন এক অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তাকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে, সরকার ব্যবস্থাটি কেবল ধনীদের কুক্ষিগত নয়; বরং সদিচ্ছা থাকলে এটি সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জন্যও সুফল বয়ে আনতে পারে।’
নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ১ জানুয়ারির সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য, যেখানে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি নতুন দিনের স্বপ্ন দেখাবেন।
Analysis | Habibur Rahman
