.
রাজনীতি

‘নতুন বাংলাদেশ’: কর্মসংস্থান ও মানবিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জামায়াতের নির্বাচনী রূপরেখা

Email :19

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:৪৩ বুধবার বসন্তকাল

দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজস্ব নীতিগত রূপরেখা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘পলিসি সামিট-২০২৬’ শীর্ষক এক সম্মেলনে ‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’-এর এই ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াত আয়োজিত পলিসি সামিট-২০২৬–এ রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলেছবি : প্রথম আলো

মঙ্গলবার (আজ) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ভারত-পাকিস্তানসহ বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও স্থিতিশীলতা
রূপরেখা উপস্থাপনকালে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে একে ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ ও শাসনব্যবস্থার নতুন দিশা ঠিক করার ‘যুগসন্ধিক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের সামনে টিকে থাকার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’ তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান: নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
প্রথাগত জিডিপি বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচক দিয়ে দেশের উন্নয়ন পরিমাপের বিরোধিতা করে জামায়াত আমির বলেন, প্রবৃদ্ধিই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। অর্থনৈতিক সাফল্য এমন হতে হবে যেন সাধারণ মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।

শিক্ষিত বেকারত্ব ও দারিদ্র্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের তরুণরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না, যা হতাশাজনক। অন্যদিকে, সামান্য অর্থনৈতিক আঘাতেই কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।

জামায়াতের রূপরেখায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বিনিয়োগের ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ হিসেবে না দেখে একে ‘রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে গণ্য করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারকে ধাপে ধাপে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর জোর দেন ডা. শফিকুর রহমান।

নারীর ক্ষমতায়ন ও কাঠামোগত সংস্কার
দেশের টেকসই উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণকে অপরিহার্য উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, নারীদের বাদ দিয়ে কোনো জাতি সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। তিনি স্বীকার করেন যে, নারীরা এখনো সমাজে নানামুখী কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিকে তিনি কেবল ‘ন্যায়বিচারের প্রশ্ন’ নয়, বরং ‘অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

প্রবাসী ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্তকরণ
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা স্মরণ করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতি সচল রাখছেন না, তারা বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি বিদেশের মাটিতে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, প্রবাসীরা সংস্কার প্রক্রিয়ায় পরামর্শ ও নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।

অংশীদারত্বমূলক ভবিষ্যৎ
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক বিশ্বাস, সরকারি-ব��সরকারি খাতের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের ওপর। তিনি একটি সহযোগিতামূলক ও যৌথ দায়িত্ববোধ সম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে কূটনৈতিক মহলের উপস্থিতি এবং জামায়াতের এই নীতিগত অবস্থান রাজনীতির মাঠে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts