.
আন্তর্জাতিক

নতুন তোশাখানা মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড: পাকিস্তানজুড়ে তীব্র গণ-আন্দোলনের ডাক ইমরান খানের

Email :17

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ভোর ৫:২৫ বৃহস্পতিবার শীতকাল

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও নাটকীয় মোড়। ‘নতুন তোশাখানা’ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) বিশেষ আদালত। শনিবারের এই রায়ের পরই কারাগার থেকে দেশজুড়ে দুর্বার গণ-আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ইমরান খান। একইসঙ্গে এই রায়কে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে তাঁর আইনি দল।

ইমরান খানফাইল ছবি: রয়টার্স

মামলার প্রেক্ষাপট ও রায়
এফআইএ-র বিশেষ আদালত গতকাল শনিবার এই রায় ঘোষণা করেন। মামলাটির মূল বিষয়বস্তু ছিল ইতালীয় বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ‘বুলগারি’-র একটি জুয়েলারি সেট। ২০২১ সালের মে মাসে ইমরান খান যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সৌদি আরব সফর করেন, তখন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁকে এই গয়নার সেটটি উপহার দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ইমরান খান তোশাখানা বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নামমাত্র মূল্যে সেই উপহারটি নিজের কাছে রেখে দেন, যা আইনত দণ্ডনীয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত দম্পতিকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করেন।

কারাগার থেকে ইমরান খানের বার্তা
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী থাকায় ইমরান খানের সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে রায়ের পর তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই বার্তায় ইমরান খান স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে বার্তা পাঠিয়েছি যেন তিনি অবিলম্বে রাজপথে আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেন। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আজ পুরো জাতিকে জেগে উঠতে হবে।’

ইমরান খান এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘গত তিন বছরে আমার বিরুদ্ধে যেসব রায় দেওয়া হয়েছে, এটিও তারই ধারাবাহিকতায় একটি ভিত্তিহীন ও পূর্বপরিকল্পিত রায়। আমার আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য বা যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ না দিয়েই বিচারক তড়িঘড়ি করে এই রায় চাপিয়ে দিয়েছেন।’ তিনি দেশের আইনজীবী সমাজকে সংবিধান ও আইনের শাসন রক্ষায় রাজপথে নামার আহ্বান জানান।

পিটিআই-এর কড়া প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি
পিটিআই নেতৃত্ব এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দলটির দাবি, বর্তমান সরকার ইমরান খানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাঁকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাগারে আটকে রাখতে এবং সরকারের মসনদ রক্ষা করতেই বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে।

পিটিআই-এর সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইমরান খান আপসহীন। তিনি কারও কাছে মাথা নত করবেন না কিংবা ক্ষমা চাইবেন না। যে সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্বল এবং হাস্যকর।’

অন্যদিকে, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা আসাদ কায়সার ও শেখ ওয়াকাস আকরাম বর্তমান বিচার ব্যবস্থাকে ‘ক্যাঙারু কোর্ট’ বা প্রহসনের আদালত বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁরা বলেন, ‘এই মুহূর্তে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।’

পারিবারিক ও অন্যান্য প্রতিক্রিয়া
ইমরান খানের বোন আলিমা খান এই রায়কে সরকার ও ক্ষমতাবান মহলের ‘পূর্বলিখিত চিত্রনাট্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ভাইয়ের কারামুক্তি আটকাতেই একের পর এক মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পিটিআই নেতা ওমর আইয়ুব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাকিস্তানে আইনের শাসন এখন কফিনে বন্দী। পুরো বিচার প্রক্রিয়াটিই একটি নোংরা প্রহসনে পরিণত হয়েছে।’

পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির তারিখ ঘোষণা করবেন। তবে খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে আন্দোলনের মূল সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts