১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:২৫ সোমবার বসন্তকাল
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন এবং ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বদেশে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা নাগাদ তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার মাটি স্পর্শ করার কথা রয়েছে।
দেশে পদার্পণের পর প্রথম তিন দিন তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পরিবারের সঙ্গে পুনিলন, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তার। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
প্রথম দিন (বৃহস্পতিবার): বিশাল সংবর্ধনা ও মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেবেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি চলে যাবেন ৩০০ ফিট এলাকায়, যা বর্তমানে ‘জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ নামে পরিচিত। সেখানে তার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ। অপেক্ষমান হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।
সংবর্ধনা শেষে তিনি সোজা চলে যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর মা-ছেলের এই সাক্ষাৎ এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে বিমানবন্দর সড়ক ও কাকলী মোড় হয়ে তিনি গুলশান-২ নম্বরে তার নিজ বাসভবনে ফিরবেন। ভ্রমণের ক্লান্তি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এদিন আর অন্য কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি।
দ্বিতীয় দিন (শুক্রবার): শ্রদ্ধা নিবেদন
দেশে ফেরার পরদিন অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে তারেক রহমানের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এদিন তিনি মূলত শ্রদ্ধা নিবেদনে সময় কাটাবেন। বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি প্রথমে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন এবং ফাতেহা পাঠ ও কবর জিয়ারত করবেন।
এরপর তিনি সাভারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। সেখানে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
তৃতীয় দিন (শনিবার): ভোটার হওয়া ও জুলাই বিপ্লবীদের স্মরণ
শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমানের কর্মসূচিতে রয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং আবেগের মিশেল। এদিন তিনি একজন নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন বা ভোটার হওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। তবে এই কাজের জন্য তিনি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিসে সশরীরে যাবেন কি না, তা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে পরবর্তীতে জানানো হবে।
এনআইডির কাজ শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যাবেন। সেখানে জুলাই আন্দোলনে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন বিপ্লবীদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেবেন। এছাড়াও এদিন আরেকটি কর্মসূচি থাকতে পারে, যা সময়সাপেক্ষে জানানো হবে।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার
তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্ব-প্রণোদিত হয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামছুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে আমাদের সহায়তা করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত নিবিড় সমন্বয় গড়ে উঠেছে। চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ), দলীয় স্বেচ্ছাসেবক, সাধারণ জনগণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে আমরা এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলছি, যা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী হবে।’
দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন সাজ সাজ রব এবং উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
Analysis | Habibur Rahman
