১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৪৩ বৃহস্পতিবার শীতকাল
নদীতে গোসল করার সময় দুই শিশুর সামান্য হাতাহাতিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দুটি পক্ষ। তুচ্ছ এই ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে রূপ নিলে সোমবার (আজ) সকাল থেকে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কয়েক ঘণ্টার এই তাণ্ডবে অন্তত ১৮টি বসতবাড়ি ও ৫টি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ায় সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এই হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় গত ১৬ নভেম্বর। ওইদিন পরমেশ্বরদী পশ্চিমপাড়ার রাকিব শেখের ছেলে রাজ (৭) ও হারুন শেখের ছেলে রহমতের (১০) মধ্যে নদীতে গোসল করা নিয়ে মারামারি হয়। শিশুদের এই বিরোধ মেটাতে গত ২২ নভেম্বর রাতে এলাকায় সালিস বৈঠক ডাকা হয়। তবে সেই সালিসের রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি রহমতের বাবা হারুন শেখ।
এলাকাবাসী জানান, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় রাজনীতির পুরোনো বিরোধ। শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুটি গ্রুপ। রাকিব শেখ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মান্নান মোল্লার সমর্থক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে হারুন শেখ বিএনপি সমর্থক মাসুদুর রহমানের অনুসারী।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার সকালে হারুন শেখ ও বিএনপি নেতা মাসুদুর রহমানের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হন। হামলায় পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রাম থেকেও লোকজন যোগ দেয়। হামলাকারীরা রামদা, ঢাল ও সড়কির মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরমেশ্বরদী, দুর্গাপুর ও তেলজুড়ী গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হয়। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আজাদ শেখ বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই দেখি মাসুদুর, ফয়সাল ও মকসেদের নেতৃত্বে খারদিয়া গ্রাম থেকে কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা আমার ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও দুটি গাভি লুট করে নিয়ে যায়।’
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল আলম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ১৩ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজম খান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। বেশ কিছু বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে লুটপাটের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
Analysis | Habibur Rahman