.
আন্তর্জাতিক

তিন সপ্তাহ ধরে আড়ালে ইমরান খান: বাবার পরিণতি নিয়ে শঙ্কায় ছেলে কাসিম, সন্দেহ সরকারের দিকে

Email :37

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:০২ সোমবার বসন্তকাল

পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছেই না। দীর্ঘ তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন পিটিআইয়ের এই প্রতিষ্ঠাতা। বাইরের জগত থেকে তাঁকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখায় তাঁর জীবন নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন লন্ডনে বসবাসরত তাঁর ছেলে কাসিম খান। তাঁর অভিযোগ, সরকার হয়তো বাবার সম্পর্কে কোনো ভয়াবহ সত্য আড়াল করার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিম খান তাঁর এই উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, বাবার সঙ্গে যোগাযোগের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, নাকি গুরুতর আহত—এসব না জানাটা পরিবারের জন্য এক ধরনের মানসিক পীড়ন।

কারাগারে ‘রহস্যজনক’ নীরবতা
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে তাঁর স্বজনরা দেখা করতে পারবেন। অথচ গত ২১ দিনেরও বেশি সময় ধরে কারা কর্তৃপক্ষ কাউকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছে না। এমনকি ইমরান খানের তিন বোন আদিয়ালা কারাগারের ফটকে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরেও ভাইয়ের দেখা পাননি; উল্টো তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই নজিরবিহীন বিচ্ছিন্নতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান খানের মৃত্যু বা তাঁকে গোপনে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার গুজব ছড়িয়েছে। যদিও পাকিস্তান কারা কর্তৃপক্ষ গত বুধবার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইমরান খান সুস্থ আছেন এবং কারাগারেই রয়েছেন। তবে পরিবারের কাছে এই দাবির কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

ছেলের আকুতি ও অভিযোগ
কাসিম খান বর্তমানে তাঁর মা জেমিমা গোল্ডস্মিথ ও বড় ভাই সুলেইমান ইসা খানের সঙ্গে লন্ডনে থাকেন। রয়টার্সকে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বাবার অবস্থা সম্পর্কে আমাদের হাতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো, কর্তৃপক্ষ সম্ভবত কোনো সত্য আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে।’

২০২২ সালের নভেম্বরে ইমরান খান গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শেষবার বাবাকে দেখেছিলেন কাসিম। সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সে সময় বাবাকে ওই অবস্থায় দেখার দৃশ্য আমি কোনোদিন ভুলব না। তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল তিনি সেরে উঠবেন। কিন্তু এখন এই দীর্ঘ নীরবতা এবং তাঁর বেঁচে থাকার কোনো প্রমাণ না মেলায় সেই স্মৃতি আরও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে।’

কাসিম আরও অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিকভাবে ইমরান খানকে পরাজিত করতে না পেরেই তাঁকে সচেতনভাবে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং এটি একটি জরুরি মানবাধিকার সংকট।

মেডিকেল বোর্ডের দাবি ও সরকারি উপেক্ষা
ইমরান খানের পরিবারের পক্ষ থেকে গত এক বছর ধরে বারবার আবেদন করা হচ্ছে যেন তাঁকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়। তবে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সেই অনুমতি দেয়নি। এ বিষয়ে রয়টার্স পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়নি। তবে কেন তাঁর ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে না, কিংবা কেন দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না—সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর ইমরান খানের নাম বা ছবি প্রচারের ওপরও অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

পিটিআই সমর্থক ও ইমরান খানের পরিবারের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ কোনো মাধ্যম বা চিকিৎসকের মাধ্যমে ইমরান খানের বর্তমান অবস্থা দেশবাসীকে জানানো হোক। অন্যথায় সরকারের এই ‘লুকোচুরি’ খেলা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত করবে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts