.
রাজনীতি

ঢাকা-৮: বড় প্রতীকের ভিড়ে দুই ‘সরওয়ারের’ আশাবাদ ও ব্যতিক্রমী প্রচারণার চিত্র

Email :24

৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:৪১ বৃহস্পতিবার বসন্তকাল

মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও রমনার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী মাঠে প্রধান দুই জোটের হেভিওয়েট প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানারের ছড়াছড়ি থাকলেও, আলোচনার জন্ম দিয়েছেন একই নামের দুই প্রার্থী—গোলাম সারোয়ার এবং এস এম সরওয়ার। নামের উচ্চারণে মিল থাকলেও তাঁদের দলের প্রতীক ভিন্ন, তবে জয়ের ব্যাপারে উভয়ের আশাবাদ যেন একই বিন্দুতে মিলেছে।

নামে মিল, প্রত্যয়ে অবিচল দুই ‘সরওয়ার’
নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের মাঝে কিছুটা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে দুজনের নাম। একজন ‘জনতার দল’-এর প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার (কলম প্রতীক) এবং অন্যজন ‘বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট’-এর এস এম সরওয়ার (মোমবাতি প্রতীক)। দল ও প্রতীকে ভিন্নতা থাকলেও দুজনই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ ‘পজিটিভ’।

জনতার দলের প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ারের প্রচারণার ধরণ অন্যদের চেয়ে আলাদা। নেই কোনো কর্মী-সমর্থক, নেই বড় কোনো তহবিল। তিনি নিজেই নিজের প্রচারক। তিনি বলেন, “টাকা খরচ করে কর্মী বানানোর সামর্থ্য বা মানসিকতা কোনোটাই আমাদের নেই। আমি একাই প্রচারণা চালাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, ভোটাররা যদি আমার চেহারা চিনে ভোটকেন্দ্রে যান, তবে ফলাফল ইনশা আল্লাহ পজিটিভ হবে।”

অন্যদিকে, মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এস এম সরওয়ার ঢাকা-৮ ছাড়াও হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে লড়ছেন। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জে অবস্থান করলেও ঢাকায় তাঁর দলের কর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন বলে জানান। এলাকায় মোমবাতি প্রতীকের পোস্টার কম দেখা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “কেউ কেউ আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে। তবে আমরা মারামারি বা সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। সন্ত্রাসীদেরও আমরা ভালোবাসা দিয়ে ভালো পথে আনার চেষ্টা করি।” প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে তিনিও বিপুল ভোটে জয়ের আশা রাখছেন।

মাঠ কাঁপাচ্ছে ‘ধানের শীষ’ ও ‘শাপলা’
সরেজমিনে শাহজাহানপুর, পল্টন ও মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন মূলত দুইজন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস (ধানের শীষ) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (শাপলা প্রতীক)। এই দুই প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা। ভোটারদের মুখেও এই দুই প্রার্থীর নাম বেশি শোনা যাচ্ছে।

ব্যতিক্রমী প্রচারণায় একমাত্র নারী প্রার্থী
এই ১১ জন প্রার্থীর ভিড়ে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে নজর কেড়েছেন গণ অধিকার পরিষদের মেঘনা আলম। ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। মাথায় মুকুট পরে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মেঘনা আলমের দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছেন একমাত্র তিনিই। জয়ের চেয়েও তিনি ‘ব্যবস্থা বদলের’ লড়াইকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান।

অন্যান্য প্রার্থী ও মিডিয়া বিমুখতার অভিযোগ
বড় দলগুলোর বাইরে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বাংলাদেশ জাসদের এ এফ এম ইসমাইল চৌধুরী (মোটরগাড়ি), সিপিবির ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মো. জুবের আলম খান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের কেফায়েত উল্লা (হাতপাখা), সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মো. রাসেল কবির (ছড়ি) এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী)-র এ এইচ এম রফিকুজ্জামান আকন্দ (কাঁচি)।

সিপিবি ও জাসদের প্রার্থীরা নির্বাচনী সাড়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, ছোট দলগুলোর কণ্ঠে রয়েছে আক্ষেপ। বাসদ (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী রফিকুজ্জামান আকন্দ অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কালোটাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহারের ফলে সাধারণ প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির জুবের আলম খানের অভিযোগ মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, “গণমাধ্যম শুধু বড় দুই-একজন প্রার্থীকে নিয়েই ব্যস্ত। আমাদের মতো যারা স্বল্প পুঁজিতে মাঠে আছেন, তাদের কথা সেভাবে প্রচার হচ্ছে না।”

সব মিলিয়ে ঢাকা-৮ আসনে বড় দলগুলোর শোডাউনের পাশাপাশি ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যতিক্রমী প্রচারণা ও আশাবাদ নির্বাচনকে করে তুলেছে বৈচিত্র্যময়। এখন দেখার বিষয়, ভোটের দিন ব্যালট বাক্সে এই আশাবাদের প্রতিফলন কতটা ঘটে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts