.
অর্থনীতি

ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পাচ্ছে কারা? বিকাশ, রবি সহ ১২ প্রতিষ্ঠানের লড়াই!

Email :89

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:১৯ সোমবার বসন্তকাল

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। প্রথাগত শাখা-ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের ধারণা পেছনে ফেলে এবার আসছে সম্পূর্ণ অ্যাপ-নির্ভর ‘ডিজিটাল ব্যাংক’। এই নতুন ধারার ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্য দিয়ে দেশের আর্থিক খাতে এক নতুন প্রতিযোগিতার মঞ্চ তৈরি হলো।

এই দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্রদানকারী বিকাশ এবং দুটি বড় টেলিকম অপারেটর রবি ও বাংলালিংকের মতো হেভিওয়েট প্রতিষ্ঠানের নাম। বিভিন্ন অংশীদারত্বের ভিত্তিতে গঠিত কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে তারা ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা এই উদ্যোগকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। এদের পাশাপাশি বিদেশি অংশীদার ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় থাকায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভেবে দেখুন এমন একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার কথা, যেখানে সেবা পেতে আপনাকে ঘরের বাইরে যেতে হবে না, কোনো লাইনে দাঁড়াতে হবে না এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আপনার স্মার্টফোনটিই হবে এর শাখা, আর একটি অ্যাপই হবে আপনার ব্যাংকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রম হবে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর। এর কোনো 물리ական শাখা, উপশাখা বা নিজস্ব এটিএম বুথ থাকবে না। গ্রাহকরা ভার্চুয়াল কার্ড ও কিউআর কোডের মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই লেনদেন সারতে পারবেন। তবে টাকা তোলা বা জমা দেওয়ার প্রয়োজনে তারা অন্য যেকোনো ব্যাংকের এটিএম, সিডিএম বা এজেন্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে এর কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতাও রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকগুলো বড় বা মাঝারি শিল্প খাতে কোনো ঋণ দিতে পারবে না এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবে না। তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের সেবা দেওয়া এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা। ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে এই ব্যাংকগুলোকে যাত্রা শুরু করতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এখন সবার দৃষ্টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের দিকে। এই ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে কারা চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে এবং তাদের হাত ধরে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা কতটা সহজ ও সুলভ হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, ডিজিটাল ব্যাংকের আগমন দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts