১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:৪৪ বুধবার বসন্তকাল
রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন সম্ভাব্য জোট এবং মেরুকরণের হিসাব-নিকাশ তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে সব জল্পনার ওপর একটি আপাতত যতিচিহ্ন টেনে দিলেন গণঅধিকার পরিষদের (GOP) নেতা নুরুল হক নুর। প্রচলিত জোটের রাজনীতিতে গা না ভাসিয়ে তার দল এই মুহূর্তে নিজস্ব পথেই হাঁটছে—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। এই ঘোষণাটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং এটি নুরের দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, সেটিকে সরাসরি ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছেন নুরুল হক নুর। তিনি חד משמעיתভাবে জানিয়েছেন যে, গণঅধিকার পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী বা কৌশলগত জোট গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তার মতে, এ ধরনের প্রচার দলের নীতি ও আদর্শ থেকে মনোযোগ সরানোর একটি অপপ্রয়াস হতে পারে।
নুরের এই অবস্থানকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করছেন।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, কোনো বড় দলের ছায়ায় না গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ প্রথমে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি তরুণ প্রজন্ম এবং প্রচলিত রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ একটি গোষ্ঠীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। কোনো জোটে অন্তর্ভুক্ত হলে দলের এই স্বতন্ত্র পরিচিতি ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে হয়তো তারা মনে করছে।
অন্যদিকে, নুরের বক্তব্যে “এখন পর্যন্ত” শব্দটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সুচিন্তিত কৌশল হতে পারে। নির্বাচনের আগে জোটের বাজারে নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে এবং সম্ভাব্য মিত্রদের কাছ থেকে সেরা প্রস্তাব আদায় করতে এই অবস্থান গণঅধিকার পরিষদকে একটি সুবিধাজনক জায়গায় রাখবে। এখনই কোনো পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হয়ে তারা মূলত আলোচনার সব দরজা খোলা রাখছে।
গণঅধিকার পরিষদের এই ‘একলা চলো’ নীতি কি দীর্ঘমেয়াদী, নাকি এটি কেবলই একটি সাময়িক কৌশল—সেই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দলটি কি শেষ পর্যন্ত তৃতীয় একটি ধারা তৈরির দিকে এগোবে, নাকি সময়ের প্রয়োজনে প্রচলিত কোনো জোটের অংশ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তবে নুরের এই ঘোষণায় একটি বিষয় পরিষ্কার—গণঅধিকার পরিষদ হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ। তারা নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি, জনসমর্থন এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে চায়। আপাতত, জোটের জটিল সমীকরণ থেকে নিজেদের দূরত্বে রেখে নিজস্ব ঘর গোছানো এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতেই মনোযোগ দিচ্ছে এই উদীয়মান দলটি।
Analysis | Habibur Rahman


