.
রাজনীতি

জোটের সমীকরণ শেষে ‘একলা চলো’ নীতি ২৬৮ আসনে ‘হাতপাখা’, বাকি ৩২ আসনে কাউকে সমর্থন দেবে ইসলামী আন্দোলন

Email :24

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৪৬ সোমবার বসন্তকাল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত এককভাবেই লড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টিতেই নিজস্ব দলীয় প্রার্থী দিচ্ছে। তবে বাকি ৩২টি আসনে প্রার্থী না দিলেও সেখানে কাদের সমর্থন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান নির্বাচনের এই কৌশল নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

বাকি ৩২ আসনে সমর্থনের মানদণ্ড
২৬৮টি আসনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাকি ৩২টি আসনের বিষয়ে দলটির কৌশল ভিন্ন। গাজী আতাউর রহমান জানান, রাজনীতির বহুমুখী সমীকরণ ও আদর্শিক জায়গা থেকে তারা সিংহভাগ আসনে একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ফাঁকা রাখা ৩২টি আসনে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্য থেকে যোগ্যদের বেছে নেবেন।

তিনি বলেন, ‘যে ৩২টি আসনে আমাদের দলীয় প্রার্থী নেই, সেখানে আমরা এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেব—যারা সৎ, যোগ্য এবং জনতার প্রতি দায়বদ্ধ। ২০ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার পর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সমর্থনের বিষয়টি ঘোষণা করা হবে।’

জোটের রাজনীতি ও আসন ভাগাভাগির টানাপোড়েন
এর আগে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের জোর গুঞ্জন ছিল। বিশেষ করে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি ও ভিন্ন দিনে গণভোটের দাবিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন যুগপৎ কর্মসূচিতেও ছিল। কিন্তু ভোটের মাঠে আসন বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়।

রাজনৈতিক সূত্রমতে, জামায়াতে ইসলামী তাদের জোটের পক্ষ থেকে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের দাবি ছিল ৫০টি আসন। দীর্ঘ দর-কষাকষির পর দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

গত ১৫ জানুয়ারি জামায়াতসহ ১০টি দল সংবাদ সম্মেলন করে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করে। সেখানে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে তাদের জোটে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পরদিনই (১৬ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করে একক নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন।

ভোটের মাঠে নতুন মেরুকরণ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি এখন স্পষ্ট। একদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় মোর্চা, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক অবস্থান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২৬৮ আসনে একক প্রার্থী দিয়ে ইসলামী আন্দোলন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিতে চাইছে। একই সঙ্গে বাকি ৩২ আসনে ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে নিজেদের দায়বদ্ধতা প্রমাণের চেষ্টা করছে। ২০ জানুয়ারির পর দলটির সমর্থন কোন কোন প্রার্থীর দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts