১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৪৪ বৃহস্পতিবার শীতকাল
নির্বাচনী জোটে থাকলেও শরিক দলগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে—গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) এমন সংশোধিত বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রুল জারি করেন।
রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশের ৯ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের ২৮, ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আইনসচিব, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৩ নভেম্বর আরপিও সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে। নতুন এই সংশোধনীতে বলা হয়, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলেও প্রতিটি দলকে তাদের নিজস্ব নিবন্ধিত প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। এর ফলে, অতীতে জোটের বড় কোনো শরিক দলের প্রতীক (যেমন—ধানের শীষ বা নৌকা) ব্যবহার করে ছোট দলগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যে সুযোগ ছিল, তা বন্ধ হয়ে যায়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মহাসচিব মোমিনুল আমিন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও রেশাদ ইমাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব এবং ইসির পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।
আরপিও-র এই সংশোধনী নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিএনপি শুরু থেকেই এই বিধানের বিরোধিতা করে আসছে। দলটির দাবি, জোটগত নির্বাচনে ছোট দলগুলো নিজস্ব প্রতীকে লড়লে তাদের জয়ের সম্ভাবনা কমে যায়, যার সুবিধা নিতে পারে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আপত্তিও জানিয়েছিল।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারের এই সংশোধনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, প্রতিটি দলের নিজস্ব পরিচয়েই নির্বাচনে আসা উচিত। তবে শেষ পর্যন্ত দলগুলোর ভিন্নমত সত্ত্বেও নিজস্ব প্রতীকে ভোটের বিধান রেখেই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল সরকার, যা এখন উচ্চ আদালতের বিচারাধীন।
Analysis | Habibur Rahman




