১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:১৪ সোমবার বসন্তকাল
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলককে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই মামলার অভিযোগের সঙ্গে তাদের মক্কেলদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বৃহস্পতিবার (আজ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই আবেদন পেশ করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে এবং বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত আগামী ২১ জানুয়ারি এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি
মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতেই তার পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুনজুর আলম। শুনানিতে তিনি অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রসিকিউশন জয়ের সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা পর্যন্ত নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আইনজীবী মুনজুর আলম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা ছিলেন। তার অবস্থান ছিল মন্ত্রণালয়ের কাঠামোর বাইরে। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার বা দায়িত্ব—কোনোটিই তার ছিল না; এটি সম্পূর্ণ সরকারের নির্বাহী অংশের কাজ।’
জুলাইয়ের উত্তাল সময়ে জুনাইদ আহ্মেদ পলকের ফেসবুক পোস্ট ও কার্যক্রমের দায় জয়ের ওপর চাপানোর চেষ্টার বিরোধিতা করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘পলক ফেসবুকে যা পোস্ট করেছেন, তা জয়ের নির্দেশে বা জ্ঞাতসারে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ সেসব পোস্টে জয়কে ট্যাগ করা হয়নি, তিনি লাইক দেননি কিংবা কোনো মন্তব্যও করেননি। এমনকি পলকের সঙ্গে সালমান এফ রহমানের কথোপকথনের প্রমাণ থাকলেও, জয়ের সঙ্গে সালমানের কথা হয়েছে—এমন কোনো রেকর্ড নেই।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত জয় কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেননি এবং ঘটনার সময় তিনি দেশেই ছিলেন না। প্রসিকিউশন তার দেশ ত্যাগের তারিখও উল্লেখ করতে পারেনি। আইনজীবীর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এবং ভবিষ্যতে তার দেশে ফেরার পথ রুদ্ধ করতেই জয়কে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। যাদের সাক্ষী করার কথা ছিল, উল্টো তাদেরই আসামি করা হয়েছে।
পলকের পক্ষে আইনজীবীর বক্তব্য
অন্যদিকে, বর্তমানে কারাগারে থাকা সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলককে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তার আইনজীবী এম লিটন আহমেদ অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে বলেন, পলকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৯৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তিনি ৮৯ দিন রিমান্ডে ছিলেন।
জুলাই মাসে ইন্টারনেট শাটডাউন প্রসঙ্গে লিটন আহমেদ বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং গুজব প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।’
তিনি অভিযোগ করেন, পলকের বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, তিনি সর্বদা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষে ছিলেন, আন্দোলন দমনের পক্ষে নয়। এছাড়া, আইনজীবীর সাথে একান্ত সাক্ষাৎ (প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন) চলাকালেও পলককে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার আইনজীবী।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন।
Analysis | Habibur Rahman

