১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৩৭ বৃহস্পতিবার শীতকাল
২০২৬: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জোট গঠনের প্রক্রিয়া ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির নানা দিক নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাক্ষাৎ শেষে নাহিদ ইসলাম নিজেই তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিসহ পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একইসঙ্গে, এনসিপির পক্ষ থেকেও গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বৈঠকের কথা জানানো হয়, যেখানে উল্লেখিত ছবি (১১ জানুয়ারি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা) সংযুক্ত ছিল।
আসন সমঝোতা নয়, কৌশলগত আলোচনা:
যদিও রাজনৈতিক মহলে প্রাথমিকভাবে এই সাক্ষাৎকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, এনসিপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল আসন্ন নির্বাচনের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা। সূত্রটি আরও জানায়, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের যখন জোটের আসন সমঝোতার বিষয়টি দেখভাল করছেন, তখন আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে নাহিদ ইসলামের আলোচনায় নির্বাচনী পরিবেশ, প্রশাসনের একপেশে আচরণ এবং সামগ্রিক নির্বাচনী রণকৌশল প্রাধান্য পেয়েছে।
১১-দলীয় জোট ও এনসিপির অবস্থান:
উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই জোট আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আলোচনা চলছে যে, এই সমঝোতার অংশ হিসেবে এনসিপি অন্তত ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেতে পারে, যা এই সাক্ষাতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
জোটের সম্ভাব্য আসন বিন্যাস:
জোটের ভেতরের সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত নিজেদের জন্য ১৯০টি আসন রেখে বাকি আসনগুলো শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করে দিতে চায়। প্রস্তাবিত আসন সমঝোতা অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪০টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে। এই সম্ভাব্য আসন বণ্টন নিয়ে জোটের অভ্যন্তরে আলোচনা ও সমঝোতা প্রক্রিয়া চলমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সাক্ষাৎ এবং আসন ভাগাভাগির জল্পনা দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক জোটগুলোর তৎপরতা যে ক্রমশ বাড়ছে, তারই ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে জামায়াতের মতো বড় দলের নেতৃত্বে একটি ১১-দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ এবং তাদের কৌশলগত বৈঠকগুলো আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Analysis | Habibur Rahman