.
বাংলাদেশ

জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট: থাকছে রঙিন ব্যালট ও প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের সুযোগ

Email :17

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৭:৩৮ বৃহস্পতিবার শীতকাল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোট। এই ঐতিহাসিক ভোটাভুটিকে সাধারণ নির্বাচন থেকে আলাদা করতে ব্যবহার করা হবে বিশেষ ‘রঙিন ব্যালট পেপার’। একইসঙ্গে প্রবাসীসহ নির্দিষ্ট চার শ্রেণির ভোটারদের জন্য থাকছে ডাকে বা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ।

আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতেছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং 📷 Image Source: Prothom Alo

বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার এবং গণভোটের ব্যালট পেপার যাতে গুলিয়ে না যায়, সেজন্য গণভোটের ব্যালটটি হবে রঙিন। চারটি ভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে একটি মাত্র প্রশ্ন, যার উত্তর দিতে হবে ভোটারদের। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে পৃথক এই ব্যালটে ভোট দেবেন নাগরিকরা।
গণভোট প্রক্রিয়াকে সর্বজনীন করতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতোই গণভোটে পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এর ফলে প্রবাসীরা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিসহ মোট চার শ্রেণির নাগরিক দূর থেকেও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
এর আগে গত ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর সেই ভাষণের আগেই উপদেষ্টা পরিষদ ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করে, যা পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জারি করেন। রাষ্ট্রপতির সেই আদেশের মাধ্যমে সনদটি আইনি ভিত্তি লাভ করে এবং জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের বিধান নিশ্চিত করা হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত প্রদানের পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts