.
অন্যান্য

গর্ভস্থ শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও মায়ের সুস্থতায় থাইরয়েড পরীক্ষার অপরিহার্যতা

Email :4

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৩৮ বৃহস্পতিবার শীতকাল

গর্ভধারণের পরিকল্পনা বা গর্ভাবস্থায় নারীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য হরমোনের ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের বিপাক ক্রিয়া ও শারীরবৃত্তীয় কাজ সচল রাখতে থাইরক্সিন হরমোনের ভূমিকা অপরিসীম। গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেনের সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড পরীক্ষার গুরুত্ব এবং এর অবহেলার মারাত্মক পরিণতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

কেন এই সতর্কতা জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, নারীদের মধ্যে থাইরয়েডজনিত হরমোনের সমস্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যায়। এটি সরাসরি প্রজননক্ষমতা ও গর্ভধারণের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতা মা এবং অনাগত সন্তান উভয়ের জন্যই ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

গর্ভস্থ শিশুর ওপর প্রভাব
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি থাকলে তা সরাসরি ভ্রূণের ওপর প্রভাব ফেলে। ডা. তানজিনা হোসেন জানান, শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মায়ের থাইরয়েড হরমোন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না হলে গর্ভপাত, অপরিণত শিশু প্রসব কিংবা কম ওজনের শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, চিকিৎসার অভাবে নবজাতক ‘ক্রিটিন বেবি’ হিসেবে বা জন্মগত নানা শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে।

মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি
শুধু শিশুই নয়, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা মায়ের জন্যও বিপজ্জনক। এ সময় ‘সাবক্লিনিক্যাল’ বা খুব সামান্য মাত্রায় হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা জরুরি। থাইরয়েডের সমস্যার কারণে গর্ভবতী মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, প্রি–একলাম্পসিয়া, রক্তশূন্যতা এবং প্রসব–পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অতিরিক্ত বমি ও অরুচির কারণেও হরমোনের মাত্রায় তারতম্য ঘটতে পারে। এমনকি প্রসবের পর ‘পোস্ট পারটাম থাইরয়েডাইটিস’ নামক প্রদাহ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কখন পরীক্ষা করাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত গর্ভধারণের আগেই থাইরয়েড পরীক্ষা করানো। যাদের আগে থেকেই সমস্যা আছে, তাদের ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করে হরমোন নিরাপদ মাত্রায় আনার পরই সন্তান নেওয়া উচিত। আর যদি আগে পরীক্ষা না করা হয়ে থাকে, তবে গর্ভধারণের পর প্রথম চেকআপেই এই পরীক্ষা করা অত্যাবশ্যক।

গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রা ঘনঘন পরিবর্তিত হয়। তাই সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ অন্তর পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে হরমোন নিরাপদ মাত্রায় আছে কি না।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts