১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৭ সোমবার বসন্তকাল
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দাদী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পোস্টটি পরবর্তীতে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও শেয়ার করা হয়।
লেখায় কেবল পারিবারিক আবেগ নয়, উঠে এসেছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, আইন পেশার অভিজ্ঞতা এবং আগামীর বাংলাদেশে নিজের ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয়।
‘প্রধানমন্ত্রী’র খোলসের আড়ালে মমতাময়ী ‘দাদু’
জায়মা রহমান তার লেখায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে এক ভিন্নরূপে উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে থাকার পরেও নাতনিদের জন্য খালেদা জিয়া ছিলেন একজন সাধারণ ও মমতাময়ী অভিভাবক।
শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে জায়মা ১১ বছর বয়সের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, স্কুলের ফুটবল টুর্নামেন্টে জেতা মেডেল নিয়ে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন দাদীর অফিসে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সব কাজ ফেলে মুগ্ধ হয়ে নাতনির গোলকিপিংয়ের গল্প শুনেছিলেন। জায়মা লেখেন, “তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে, পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।” এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই জায়মা নেতৃত্বের মূল শিক্ষা—নম্রতা, আন্তরিকতা এবং ধৈর্য ধরে অন্যের কথা শোনার গুণটি অর্জন করেছেন।
প্রবাসজীবন ও শিকড়ের টান
জীবনের একটা বড় সময় লন্ডনে কাটালেও জায়মা রহমানের হৃদয়ে বাংলাদেশ সবসময়ই উজ্জ্বল ছিল। তিনি জানান, লন্ডনের জীবন তাকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা শিখিয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো নিজের শিকড়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বিস্মৃত হননি।
আইন পেশায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের দুঃখ-কষ্টের আরও কাছে নিয়ে গেছে। জায়মা উল্লেখ করেন, “কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না।” এই পেশাগত দায়বদ্ধতাই তাকে শিখিয়েছে কীভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয় এবং তাদের কথা শুনতে হয়।
অদেখা দাদা এবং চলমান আদর্শ
নিজের দাদা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কখনো দেখেননি জায়মা। কিন্তু দাদার সততা ও দেশপ্রেমের গল্প শুনেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। তিনি মনে করেন, তার দাদী খালেদা জিয়া এবং বাবা তারেক রহমান সেই আদর্শকেই লালন করে চলেছেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও কথা বলেছেন জায়মা। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সময় তিনি প্রত্যক্ষভাবে সামনে না থাকলেও নেপথ্যে থেকে পরিবারকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন এবং সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
দেশে ফেরা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে দেশে ফেরার আকুলতা প্রকাশ করেছেন জায়মা রহমান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরা তার জন্য আবেগ ও অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে তিনি অসুস্থ দাদী খালেদা জিয়ার সেবা এবং বাবা তারেক রহমানকে রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে সহায়তা করতে চান।
জায়মা স্পষ্ট করেন, তিনি জনগণের কৌতূহল ও প্রত্যাশার বিষয়ে সচেতন। তিনি লেখেন, “একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই।”
নেতৃত্বের চাপ বা জনগণের প্রত্যাশাকে ভয় না পেয়ে বরং সেটাকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। নতুন বাংলাদেশে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন জিয়া পরিবারের এই তৃতীয় প্রজন্ম।
Analysis | Habibur Rahman


