.
রাজনীতি

কর্মস্থল থেকে রাজপথ—সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য: ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম

Email :25

৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৫০ শনিবার বসন্তকাল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৪ (মিরপুর, শাহ আলী ও দারুস সালাম)। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (তুলি) তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় জননিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচিত হলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই হবে তাঁর প্রথম কাজ।

মিরপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের অন্যতম সংগঠক সানজিদা ইসলাম। রোববার দুপুরের পর তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশাল বহর নিয়ে মিরপুরের উত্তর বিশিল, শাহ আলীর তুরাগ সিটি, কুসুমবাগ ও শাইনপুকুর এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালান।

‘সবুজ ও নিরাপদ’ ঢাকার স্বপ্ন
প্রচারণাকালে সানজিদা ইসলাম বিএনপির কেন্দ্রীয় স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর পাশাপাশি তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে ‘সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ঢাকা-১৪’ গড়ার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার আলোকে স্থানীয় উন্নয়নের রূপরেখা ব্যাখ্যা করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা যখনই কোনো এলাকায় যাচ্ছি, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দুর্ভোগের কথাও আমাদের শোনাচ্ছেন। তাঁদের আশ্বস্ত করে আমি বলতে চাই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি বা প্রথম অগ্রাধিকার হবে—নারী ও পুরুষ সবার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। কর্মস্থল থেকে শুরু করে চলাফেরার পথে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সেটি আমরা নিশ্চিত করব।’’

প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যখন ইতিহাস ও আবেগ
ঢাকা-১৪ আসনটি এবারের নির্বাচনে বিশেষ মনোযোগ কেড়েছে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে। এই আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সানজিদা ইসলামের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক)।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সানজিদা ইসলাম গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর মাধ্যমে মানবাধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান নিজেই গুমের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর মুক্ত হয়েছেন। ফলে মিরপুর, শাহ আলী ও দারুস সালাম এলাকার ভোটারদের কাছে এই দুই প্রার্থীর লড়াইটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী লড়াই হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

মাঠের চিত্র
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম যখন অলিগলি ঘুরে লিফলেট বিতরণ করছিলেন, তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নারী ভোটারদের সঙ্গে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা গেছে। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র মেরামত এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে সানজিদা ইসলামের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভোটারদের আকৃষ্ট করছে।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকা-১৪ আসনে প্রচারণার উত্তাপ ততই বাড়ছে। প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি আর ভোটারদের প্রত্যাশার মেলবন্ধনে ১ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনী পরিবেশ এখন তুঙ্গে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts