মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত ঘিরে। ইরানের ওপর আক্রমণ শুরুর এক মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর দেশটিতে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন খবর প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের গণমাধ্যম তেহরান টাইমস তাদের ইংরেজি সংস্করণের প্রথম পাতায় শিরোনাম করেছে—“ওয়েলকাম টু হেল” (জাহান্নামে স্বাগতম)। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পরোক্ষভাবে কঠোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে প্রবেশ করে, তবে তারা জীবিত ফিরে যেতে পারবে না—“কফিনে করেই ফিরতে হবে।”
এই ধরনের বার্তা এসেছে এমন সময়, যখন মার্কিন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে এখনো শান্তিপূর্ণ আলোচনার সুযোগ রয়েছে। যদিও বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সামরিক বিকল্পের সুযোগ বাড়ানো। ইতোমধ্যে হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ও মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এক ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে হুথি বিদ্রোহী-দের সক্রিয় করে তোলা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে, যা এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দিতে পারে।
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই, তবুও অতিরিক্ত সেনাদের অবস্থান নিয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশপাশে মোতায়েন হতে পারে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইসরায়েল-এর সামরিক অভিযানের কারণে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানি শাসনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলা চালানো হয়, যেখানে তাদের দাবি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ-র অবকাঠামো ছিল লক্ষ্যবস্তু।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক অনিশ্চিত সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য স্থল অভিযান, পাল্টা হুমকি এবং বহুমুখী সামরিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এই উত্তেজনা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহৎ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।