.
আন্তর্জাতিক

এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: শেষমেশ কংগ্রেসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন

Email :13

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৬:৩৬ সোমবার বসন্তকাল

দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক টানাপড়েনের পর অবশেষে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তে গঠিত ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’র সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্লিনটনের দপ্তর।

কমিটির সামনে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে ‘কংগ্রেস অবমাননার’ (Contempt of Congress) অভিযোগে ভোটাভুটির প্রস্তুতি নিচ্ছিল রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এই কমিটি। বড় ধরণের আইনি পদক্ষেপের ঠিক আগ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করলেন হাই-প্রোফাইল এই ডেমোক্র্যাট দম্পতি।

উপরে বাঁ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ধনকুবের রিচার্ড ব্র্যানসন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; মাঝের সারিতে বাঁয়ে যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, নিচে বাঁ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, চলচ্চিত্র পরিচালক ব্রেট র‍্যাটনার ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনফাইল ছবি

চার দশকের ইতিহাসে বিরল নজির
বিল ক্লিনটনের এই সাক্ষ্যদান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বিরল ঐতিহাসিক ঘটনা হতে যাচ্ছে। ১৯৮৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের পর বিল ক্লিনটনই হতে চলেছেন প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি কংগ্রেসীয় কোনো কমিটির জেরার মুখে সশরীরে হাজির হবেন। সাক্ষ্যগ্রহণের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত না হলেও, এই ঘটনা ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে বড় ধরণের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে যা রয়েছে
২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণ করা জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল ক্লিনটনের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং ফ্লাইট লগ থেকে জানা যায়, ২০০২ ও ২০০৩ সালে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে অন্তত চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও, সম্প্রতি বিচার বিভাগের প্রকাশ করা কিছু নথিতে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বাসভবনের সুইমিং পুল এবং হট টাবের মতো স্থানে বিল ক্লিনটনের উপস্থিতির ছবি উঠে এসেছে।

যদিও শুরু থেকেই ক্লিনটন দাবি করে আসছেন, এপস্টেইনের জঘন্য অপরাধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। তাঁর দাবি, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার বহু আগেই তিনি প্রায় দুই দশক আগে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তবে তদন্ত কমিটি মনে করছে, স্বচ্ছতার স্বার্থে সাবেক প্রেসিডেন্টের সরাসরি জবানবন্দি প্রয়োজন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
ক্লিনটন দম্পতি শুরু থেকেই এই সমনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যায়িত করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্ররোচনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করতেই এই তদন্ত সাজানো হয়েছে।

হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারকে লেখা এক কড়া চিঠিতে ক্লিনটন দম্পতি তদন্তের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চিঠিতে বলা হয়, “চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি সত্য উদ্‌ঘাটনের চেয়ে দলীয় রাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, যার অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই।”

তবে কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান জেমস কোমার পাল্টা যুক্তিতে বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। আমরা মাসের পর মাস ক্লিনটনের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাঁরা কেবল সময়ক্ষেপণ করেছেন।”

অবশেষে সম্মতি
সোমবার রাতে বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিশ্চিত করেন যে, ক্লিনটন দম্পতি কমিটির সামনে হাজির হবেন।

উরেনিয়া কমিটির সমালোচনা করে লেখেন, “সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরল বিশ্বাসে আগে যা জানতেন, তা শপথ করে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কমিটি তা কানে তোলেনি। এরপরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে তাঁরা সেখানে উপস্থিত হবেন।”

ক্লিনটন দম্পতির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, কংগ্রেস অবমাননার মতো গুরুতর অভিযোগ এড়াতেই মূলত তাঁরা এই কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে রাজি হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেসের রুদ্ধদ্বার বা উন্মুক্ত শুনানিতে ক্লিনটন দম্পতি নতুন কী তথ্য দেন এবং তা মার্কিন রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts