১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১১:১৯ সোমবার বসন্তকাল
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে রোববার দুপুরে ইসলামপুর-উলিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত এ এস এম আবদুল হালিমের অনুসারীরা। এই কর্মসূচির বিশেষ দিক ছিল যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল ও নদীভাঙন কবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক নারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদকে। তবে এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ স্থানীয় বিএনপির একাংশ ও সাধারণ সমর্থকদের অনেকেই। তাঁরা সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ এস এম আবদুল হালিমকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান।
রোববার বেলা ১১টার দিকে আবদুল হালিমের সমর্থক ও স্থানীয় কর্মীরা আমতলী বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। দুপুরের দিকে যমুনা পাড়ের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা শত শত নারী এই বিক্ষোভে যোগ দিলে তা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এ সময় তারা প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন করেন এবং পরবর্তীতে সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী এই অবরোধ শেষে বিক্ষোভকারীরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীরা জানান, এ এস এম আবদুল হালিম দীর্ঘ দিন ধরে যমুনার ভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। যেকোনো বিপদে-আপদে এবং নদীভাঙন রোধে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার ক্ষমতার কারণেই তারা সুলতান মাহমুদের পরিবর্তে আবদুল হালিমকে প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ খান, সহসভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, হেলাল উদ্দিন এবং চিনাডুলী ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী নাছিমা বেগমসহ যুবদলের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা অবিলম্বে কেন্দ্র ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানান।

মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে এ এস এম আবদুল হালিম বলেন, ‘যমুনার পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত নারীরা আমাকে ভালোবেসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি তাঁদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার। দলীয় তালিকায় আমার নাম না থাকায় এই অবহেলিত জনপদের নারীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে আমি আশাবাদী, দল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করলে আমি মনোনয়ন পেতে পারি।’
অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘দলের হাইকমান্ড চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছে। যারা এখন বিক্ষোভ বা অবরোধ করছেন, তারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। বিষয়টি আমি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি।’
Analysis | Habibur Rahman