১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:৪৩ বুধবার বসন্তকাল
দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় দুই ভাইবোন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে গেল এই হামলার মধ্য দিয়ে।
শনিবার ভোরে ‘আতা শেবা’ শহরের উপকণ্ঠে একটি বেসামরিক গাড়িতে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালায়। গাড়িটিতে থাকা দুই ভাইবোন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। কিছুক্ষণ পর কাছের ‘বিনত জবেইল’ শহরে ‘গান্ধ হাসপাতাল’-এর পাশে আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে সাতজন আহত হন—যাদের বেশিরভাগই সাধারণ নাগরিক।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অস্ত্র মজুতকেন্দ্র। তবে ঘটনাস্থল বা স্যাটেলাইট প্রমাণ উপস্থাপন না করায়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে তারা এখনো যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, কিন্তু ইসরায়েল সীমান্ত অতিক্রম ও দখলকৃত এলাকা থেকে সরে না আসায় উত্তেজনা অব্যাহত আছে। তাদের মতে, ইসরায়েলের এই আগ্রাসন শান্তিচুক্তির প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় হামলা অগ্রহণযোগ্য।” তারা ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহসহ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আবার পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে না গড়ায়।
লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর ভাষায়, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো সীমান্তে “নীরব আগুন” জ্বালিয়ে দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, যদি এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে দক্ষিণ লেবানন আবারও ২০০৬ সালের মতো এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রশ্ন এখন একটাই—
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই কার্যকর, নাকি এটি কেবল কাগজে-কলমে টিকে থাকা একটি প্রতিশ্রুতি মাত্র?
Analysis | Habibur Rahman


