১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৫৩ বৃহস্পতিবার শীতকাল
২০২৫-২৬ অ্যাশেজ সিরিজের শুরুটা এর চেয়ে নাটকীয় হতে পারতো না। পার্থের বাইশ গজে গত দুদিনে যা ঘটল, তা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম রোমাঞ্চকর বিজ্ঞাপন হয়ে রইল। যেখানে প্রথম দিনেই ১৯ উইকেটের পতন দেখে মনে হয়েছিল পেসারদের স্বর্গরাজ্য, সেখানেই ট্রাভিস হেডের ব্যাট হয়ে উঠল তরবারি। মূলত হেডের অতি-আগ্রাসী ব্যাটিং এবং স্কট বোল্যান্ডের নিখুঁত লাইন-লেংথের ওপর ভর করে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
২০৫ রানের লক্ষ্যটা আপাতদৃষ্টিতে খুব বড় মনে না হলেও, পার্থের এই পিচে তা মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনেও যখন পিচ থেকে বোলাররা সুবিধা আদায় করে নিচ্ছিলেন। স্কট বোল্যান্ড তার স্বভাবসুলভ ‘চ্যানেল বোলিং’ দিয়ে ইংলিশ ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামান, যা শেষ পর্যন্ত সফরকারীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অজিদের রান তাড়ায় সব ভয় দূর করে দেন ট্রাভিস হেড।
ইংল্যান্ড যে ‘বাজবল’ বা অতি-আগ্রাসী ক্রিকেটের জন্য পরিচিত, হেড যেন সেই মন্ত্রেই দীক্ষিত হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি এক অনবদ্য শতক হাঁকান। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে হেডের এই ‘গ্যাং-হো’ বা বেপরোয়া অ্যাপ্রোচ ছিল অত্যন্ত সাহসী সিদ্ধান্ত। ইংল্যান্ডের বোলারদের থিতু হওয়ার সুযোগ না দিয়ে তিনি একাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেন। তার এই ইনিংসটি নিছক রান সংগ্রাহক ছিল না, বরং এটি ছিল প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে দেওয়ার এক মোক্ষম জবাব।
অন্যদিকে, হারের জন্য ইংল্যান্ড তাদের নিজেদের ভুলকেই দুষতে পারে। দ্বিতীয় ইনিংসে যখন পিচ কিছুটা সহজ হয়ে এসেছিল, তখন ইংলিশ ব্যাটাররা উইকেটে টিকে থাকার চেয়ে শট খেলার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। অতিরিক্ত আগ্রাসন দেখাতে গিয়ে তাদের ব্যাটিং ছিল অনেকটাই হঠকারী। ক্রিকেটবোদ্ধারা বলছেন, দলের কেউ একজন যদি দায়িত্ব নিয়ে একটি শতক হাঁকাতে পারতেন, তবে পার্থ টেস্টের ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। ইনিংস গড়ার শৈল্পিক দিকটি উপেক্ষা করাই ইংল্যান্ডের পতনের মূল কারণ।
এই জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা অস্ট্রেলিয়া এখন ব্রিসবেনের দিকে তাকিয়ে। আগামী পাক্ষিকের মধ্যেই সেখানে শুরু হবে দিবা-রাত্রির পিঙ্ক বল টেস্ট। পার্থের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ব্রিসবেনে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী নতুন কী নাটক উপহার দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
Analysis | Habibur Rahman



