১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৬ সোমবার বসন্তকাল
রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যা করে দেহ ২৬ টুকরা করে ড্রামে ফেলে রাখার ঘটনাটি প্রত্যেক দিনই নতুন মোড় নিচ্ছে। ঘটনাটি প্রথমে চাঞ্চল্য তৈরি করলেও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—এই মামলার তদন্তে পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ও র্যাবের তথ্য কেন পরস্পর থেকে এতটা আলাদা শোনাচ্ছে।
আসন্ন শনিবার (১৫ নভেম্বর ২০২৫) মামলাটি নিয়ে আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা এসেছে। সকাল ১০টায় র্যাব মিডিয়া সেন্টারে মুখোমুখি হবেন র্যাব–৩ এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন। আর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, সকাল ১১:৪৫ মিনিটে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফ করবেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। দুই সংস্থার এই পৃথক ব্রিফিং আগে থেকেই তৈরি করেছে এক ধরনের কৌতূহল—তাদের তদন্তে কি ভিন্ন সত্য উঠে এসেছে, নাকি বিষয়টি আরও জটিল?
এদিকে র্যাব জানিয়েছে যে তারা গ্রেপ্তার করেছে জারেজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ পরিচিত শামীমাকে। তদন্তকারীরা বলছেন, তার কাছ থেকে পাওয়া কিছু আলামত হত্যাকাণ্ডের আগে–পরে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তাদের সূত্র বলছে, হত্যার কারণ মূলত পরকীয়া সম্পর্কজনিত উত্তেজনা। পুলিশের ধারণা—ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থেকেই তৈরি হয়েছিল পরিকল্পিত এই সহিংসতা।
প্রধান সন্দেহভাজন জারেজুল ইসলাম, যাকে ‘জারেজ মিয়া’ নামে এলাকার অনেকে চেনেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, গ্রেপ্তারের সময় সে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ছিল এবং তার কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা। তবে দুই সংস্থা এখনও একই ঘটনায় দুই রকম দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে—কেউ বলছে সম্পর্কই ছিল ট্রিগার, কেউ বলছে আলামত আরও গভীর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঠিক কোন ভার্সন আসল গল্পের কাছাকাছি—এখনই নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
অন্যদিকে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে:
জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের পাশে একটি ড্রামে ২৬ টুকরো লাশ রেখে কে বা কারা কী বার্তা দিতে চেয়েছিল?
আর হত্যাকাণ্ডটি কি একজনের একক সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে আরও কেউ জড়িত?
সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো মিলবে শনিবারের দুই আলাদা ব্রিফিংয়ে। তবে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে—ঘটনাটির প্রতিটি ধাপই যেন আরো রহস্যময় হয়ে উঠছে।
Analysis | Habibur Rahman


