১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:২০ সোমবার বসন্তকাল
রাজনীতির মাঠে দৃশ্যত নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি যখন ৩১ দফার রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা কিংবা টেলিকম পলিসি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের ভাবনায় ঘুরপাক খাচ্ছে ভিন্ন এক সমীকরণ। বিএনপির মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং হাইকমান্ডের নির্দেশনার বিপরীতে জনমনে এখনো কাটেনি গভীর সংশয়। খোদ বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যই দেশের এই ‘অমীমাংসিত রাজনৈতিক বাস্তবতার’ চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি রুমিন ফারহানা খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, “যার সাথেই দেখা হয়, সেই প্রশ্ন করে—আপা নির্বাচনটা কি হবে?” তাঁর এই একটি বাক্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলো যতটাই নির্বাচনের ছক কষুক না কেন, সাধারণ নাগরিকের আস্থার জায়গায় এখনো বিরাট শূন্যতা বিরাজ করছে। মানুষ নির্বাচনের ফলাফল বা প্রার্থী নিয়ে আলোচনার চেয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা নিয়েই বেশি চিন্তিত।
অথচ দলের ভেতরের চিত্র বেশ কর্মচঞ্চল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে জনমত গঠনের চেষ্টা চলছে পুরোদমে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, এমনকি টেলিকমিউনিকেশন খাতের মতো প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোতেও নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। পাশাপাশি, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার মতো প্রক্রিয়াগুলোও দলকে নির্বাচনের পথে অনেক দূর এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
কিন্তু রুমিন ফারহানার বক্তব্য এবং মাঠের বাস্তবতার মধ্যে যে ‘প্যারাডক্স’ বা বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই ব্যাপক প্রস্তুতি জনগণকে ভোটকেন্দ্রে টানার একটি কৌশল হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা মানুষের মনে যে অবিশ্বাসের বীজ বুনে দিয়েছে, তা এখনো প্রবল।
সাধারণ ভোটারদের এই ‘জিজ্ঞাসু দৃষ্টি’ প্রমাণ করে যে, শুধু ইশতেহার ঘোষণা বা প্রার্থী ঠিক করাই যথেষ্ট নয়; নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সরকার ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে মানুষের মনে যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন তৈরি হয়েছে, তার উত্তর মেলেনি এখনো। বিএনপির তোড়জোড় বনাম জনমনের এই অনিশ্চয়তা—আগামী দিনগুলোতে রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘুরিয়ে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Analysis | Habibur Rahman


