১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৮:২৫ সোমবার বসন্তকাল
সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্যের ডাকের ভেতরেই জোটের অখণ্ডতা নিয়ে এক গভীর সংশয়ের জন্ম দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফ্যাসিবাদ মোকাবিলার নামে জোটের ভেতরেই ‘পতিত স্বৈরাচারে’র পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি কার্যত নিজ জোটের শরিকদের দিকেই অবিশ্বাসের আঙুল তুললেন। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে নতুন করে সমীকরণ ও উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।
বুধবার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে তারেক রহমান তার ভাষণের শুরুতেই ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোকে এক থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু বক্তব্যের গভীরে প্রবেশ করে তিনি এক চাঞ্চল্যকর আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বিরোধী জোটের একটি দল অতীতে নিজেদের বাঁচাতে ‘ফ্যাসিবাদের ছাতার নিচে’ আশ্রয় নিয়েছিল। এখন সেই দলটিই আবার ‘পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচারকে’ নিজেদের ছাতার নিচে আশ্রয় দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেকের এই প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারির তীর মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দিকেই। তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতা ও আগুন-সন্ত্রাসের ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির জন্য সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনাপ্রবাহের পেছনে পুরনো কোনো শক্তির ইন্ধন থাকতে পারে।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করেন, যখন সকলের লক্ষ্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, তখন জোটের কিছু ‘রাজপথের সঙ্গী’ গণভোটের মতো বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তার মতে, এই কৌশল একদিকে যেমন নির্বাচন বিলম্বিত করে অগণতান্ত্রিক শক্তির ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দিতে পারে, তেমনই এর আড়ালে ‘পতিত স্বৈরাচারকে’ রাজনীতিতে পুনর্বাসনের পথও সুগম হতে পারে। তিনি এই বিষয়ে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।
একই সাথে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের অগ্রাধিকার মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, স্বল্প মেয়াদে সার্বিক সফলতা অর্জন এই সরকারের মূল দায়িত্ব নয়। তাদের প্রধান কাজ হলো, কোনো একটি বিশেষ দলের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী জোটের প্রায় সব শীর্ষ নেতারাই উপস্থিত ছিলেন। এমন একটি মঞ্চ থেকে তারেক রহমানের এই বার্তা তাই নিছকই সরকারের বিরুদ্ধে হুংকার নয়, বরং বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ রসায়ন এবং আস্থার সংকটকেও প্রকাশ্যে নিয়ে এলো, যা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
Analysis | Habibur Rahman


