.
বিনোদন

আইনি জটে আটকা থালাপতি বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা, ‘জন নায়াগান’ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

Email :12

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৬:৩৬ সোমবার বসন্তকাল

তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের অভিনয় জীবনের ইতি টানা নিয়ে ভক্তদের আবেগের শেষ নেই। কিন্তু সেই আবেগে জল ঢেলে দিয়েছে আইনি জটিলতা। বিজয়ের ক্যারিয়ারের শেষ চলচ্চিত্র ‘জন নায়াগান’-এর মুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা যেন কিছুতেই কাটছে না। মাদ্রাজ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে ছবিটির মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হলো।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ছবিটির সেন্সরশিপ সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করে। এই রায়ে প্রযোজনা সংস্থা কেভিএন প্রোডাকশনস সাময়িক কোনো স্বস্তি পায়নি। উল্টো মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য একক বিচারকের বেঞ্চে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

থালাপতি বিজয়ইনস্টাগ্রাম

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এম এম শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। শুনানিকালে আদালত উল্লেখ করেন, সেন্সর বোর্ডের (সিবিএফসি) এক সদস্যের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ছবিটির সার্টিফিকেশন আটকে আছে। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এর আগে একক বিচারক ছবিটির পক্ষে যে রায় দিয়েছিলেন, সেখানে সেন্সর বোর্ডের বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তাছাড়া, আদালত এটিও লক্ষ্য করেছেন যে, সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রসূন জোশীর দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে প্রযোজনা সংস্থা কোনো সুনির্দিষ্ট আবেদন বা চ্যালেঞ্জ করেনি। এই আইনি ফাঁকফোকর ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে ডিভিশন বেঞ্চ আগের আদেশ বাতিল করে এবং মামলাটি নতুন করে শোনার জন্য একক বেঞ্চে ফেরত পাঠায়।

কেন আটকে আছে স্বপ্নের প্রজেক্ট?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৯ জানুয়ারি বিজয়ের এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না মেলায় নির্ধারিত তারিখে ছবিটি আলোর মুখ দেখেনি।

প্রযোজনা সংস্থার তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর মাসে সেন্সর বোর্ডের পরীক্ষণ কমিটি ছবিটিকে ‘ইউএ ১৬+’ রেটিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে শর্ত ছিল ১৪টি দৃশ্যে কাঁচি চালাতে হবে। নির্মাতারা সেই সব শর্ত মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু নাটকীয় মোড় নেয় যখন সেন্সর বোর্ড জানায়, ছবিটির নির্দিষ্ট কিছু অংশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে—এমন একটি অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। এই অভিযোগের দোহাই দিয়ে চূড়ান্ত ছাড়পত্র আটকে দেওয়া হয়।

২২ দিনের আইনি লড়াই
ছাড়পত্র না পেয়ে গত ৫ জানুয়ারি আদালতের দ্বারস্থ হন প্রযোজকরা। এরপর গত কয়েক সপ্তাহে আইনি লড়াই তীব্র আকার ধারণ করে। প্রথমে একক বিচারক ছবিটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেন্সর বোর্ড সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং স্থগিতাদেশ পায়। পরবর্তীতে প্রযোজকরা সুপ্রিম কোর্টে গেলেও সেখান থেকে তাদের হাইকোর্টেই বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে সোমবার মামলাটি আবার শুরুর বিন্দুতে অর্থাৎ একক বেঞ্চেই ফিরে এল।

রাজনীতি ও বিদায়ী সিনেমা
‘জন নায়াগান’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি বিজয়ের ভক্তদের কাছে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। এই ছবির মাধ্যমেই অভিনয় জগৎকে চিরবিদায় জানাচ্ছেন থালাপতি বিজয়। তিনি আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, এরপর তিনি তার রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)-এর মাধ্যমে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করবেন এবং তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এইচ বিনোথ পরিচালিত এই ছবিটি মূলত তেলুগু হিট সিনেমা ‘ভগবন্ত কেশরী’-র রিমেক। ছবিতে বিজয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, পূজা হেগড়ে এবং ‘প্রেমালু’ খ্যাত মমিথা বাইজু।

এখন দেখার বিষয়, আইনি মারপ্যাঁচ কাটিয়ে কবে নাগাদ প্রিয় তারকাকে শেষবারের মতো বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পান বিজয়ের অগণিত ভক্ত।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts