১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৪৪ বৃহস্পতিবার শীতকাল
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর দীর্ঘদিনের আবাসস্থল কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া ছেড়ে মেয়রের সরকারি বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশনে’ স্থানান্তরিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী জানুয়ারি মাসে শপথ গ্রহণের পরপরই স্ত্রী রমাকে নিয়ে তিনি ম্যানহাটনের এই ঐতিহাসিক প্রাসাদে উঠবেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় মামদানি জানিয়েছেন, মূলত দুটি প্রধান কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমত, তাঁর পরিবারের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিউইয়র্কবাসীর জন্য ‘সাশ্রয়ী জীবনযাপন কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে নিজের পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করা।

দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা অ্যাস্টোরিয়ার বাসাটি ছাড়ার বিষয়ে মামদানি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি উল্লেখ করেন, এই এলাকার সংস্কৃতি ও পরিবেশ তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি লেখেন, ‘আমরা এখানকার সবকিছুই মিস করব—সেই বিরামহীন এডেনি চায়ের আড্ডা, আরবি ও স্প্যানিশসহ নানা ভাষার প্রাণবন্ত কথোপকথন এবং রাস্তার পাশ থেকে ভেসে আসা সামুদ্রিক খাবার ও শর্মার ঘ্রাণ।’
৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট বর্তমানে একটি সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত (ভাড়ানিয়ন্ত্রিত) এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেন, যার মাসিক ভাড়া প্রায় ২,৩০০ মার্কিন ডলার। মাত্র ৮০০ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাটে নিজস্ব লন্ড্রি সুবিধা না থাকলেও ভবনটিতে লিফট ও হিটিং ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে মামদানির এই বাসায় থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক কম হয়নি। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, বছরে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ডলার আয় করা সত্ত্বেও মামদানির এমন ভর্তুকিযুক্ত বাসায় থাকা অনৈতিক।
অন্যদিকে, গ্রেসি ম্যানশনের জীবনযাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইস্ট রিভারের তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদে রয়েছে মনোরম দৃশ্য, বড় ফায়ারপ্লেসসহ বিনোদন কক্ষ এবং সার্বক্ষণিক রান্নার জন্য নিজস্ব শেফ। নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি দুর্ভেদ্য; রয়েছে উঁচু সীমানাপ্রাচীর, সিসি ক্যামেরা এবং পুলিশি পাহারা। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, নিরাপত্তা ও দাপ্তরিক কাজের সুবিধার জন্য প্রায় সব মেয়রই শেষ পর্যন্ত গ্রেসি ম্যানশনকেই বেছে নেন।
গত মাসের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবেও ইতিহাস গড়তে চলেছেন। আবাসন খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের মন জয় করেছেন। এখন দেখার বিষয়, অ্যাস্টোরিয়ার সাধারণ জীবন থেকে গ্রেসি ম্যানশনের রাজকীয় আবহে গিয়ে তিনি তাঁর নির্বাচনী ওয়াদা কতটা পূরণ করতে পারেন।
Analysis | Habibur Rahman