১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:০৮ সোমবার বসন্তকাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মামলায় কেবল ‘অভিযুক্ত’ হলেই কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না—এমন দাবি তুলেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের নেতারা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই কাউকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া অগণতান্ত্রিক চর্চা। একই সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পদত্যাগের পর অন্তত তিন বছর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (আজ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর ১৪ দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন জোটের নেতারা।
স্মারকলিপিতে বাম জোট স্পষ্ট করেছে যে, কোনো সভ্য দেশের নির্বাচনী বিধিতে কেবল মামলা বা অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে প্রার্থী হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। তাদের মতে, ট্রাইব্যুনাল আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণার যে বিধানের কথা বলা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

নির্বাচনী সংস্কারের অংশ হিসেবে বাম জোটের অন্যতম দাবি হলো, বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্য পদত্যাগ করার পরপরই যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। এ ক্ষেত্রে পদত্যাগের পর অন্তত তিন বছরের একটি বাধ্যতামূলক বিরতি বা ‘কুলিং পিরিয়ড’ রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নির্বাচনকে কালোটাকা ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত করতে জামানত ও নির্বাচনী ব্যয়ের লাগাম টানার দাবি জানিয়েছে বাম জোট। তারা বলছে, জামানতের অঙ্ক বাড়িয়ে সাধারণ মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী ও সৎ মানুষকে রাজনীতি বিমুখ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, জামানত হতে হবে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং নির্বাচনী ব্যয়সীমা ৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এছাড়া পোস্টার-লিফলেট ছাপানোসহ প্রার্থীদের প্রচারণার ব্যয় নির্বাচন কমিশনকেই বহন করার প্রস্তাব দিয়েছে জোটটি।
১৪ দফার মধ্যে আরও রয়েছে—আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, সব আসনে ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা এবং ডিসি-ইউএনওদের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন বাম নেতারা। তাঁরা বলেন, প্রশাসন ও পুলিশকে দলীয় নির্দেশে চলার হুমকি দেওয়ার পরও কেন ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা বিস্ময়কর।
বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স (মূল তথ্যে আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন উল্লেখ আছে, তবে সাধারণত প্রিন্স বক্তব্য দেন, তথ্যানুযায়ী রতন থাকলে রতনই হবে), বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানাসহ অন্য শীর্ষ নেতারা। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধিদল ইসির অতিরিক্ত সচিবের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।
Analysis | Habibur Rahman