.
অন্যান্য

অনুমতি ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি?, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টার

Email :111

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৫ সোমবার বসন্তকাল

সরকারি নির্দেশনা কিংবা কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হুট করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনহীন এই মূল্যবৃদ্ধিকে সম্পূর্ণ ‘আইনগত ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের এই একতরফা সিদ্ধান্ত সরকার মেনে নেবে না এবং এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, তিনি মাত্র আধা ঘণ্টা আগেই বিষয়টি অবগত হয়েছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র গতকালই (মঙ্গলবার) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে টিসিবির জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে দরে তেল কেনা হয়েছে, আজ বাজারে তার চেয়ে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেশি দরে তেল বিক্রি হচ্ছে। এর কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

জানা গেছে, আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ৯ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্যারিফ কমিশন বা মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তবে ব্যবসায়ীদের এমন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, “এটি তাদের নিজস্ব বক্তব্য, যা আমরা মানি না।”

ব্যবসায়ীদের এই স্বেচ্ছাচারিতার লাগাম টানা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “সরকার সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেই যৌক্তিক সমাধান চায়। আমরা তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করতে চাই না, তবে আলোচনার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে আসন্ন রমজানে পণ্য সরবরাহ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার বেশি, তাই সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। এছাড়া বাজারে চিনি, ছোলা, ডাল ও ডিমের দাম নিম্নমুখী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ ছাড়া তেলের দাম বাড়ানোকে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, “অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন অনুযায়ী পণ্যের মূল্য নির্ধারণের একটি সুনির্দিষ্ট সূত্র রয়েছে। রিফাইনারিগুলো যদি নিজেরা দাম বাড়িয়ে দেয়, তবে তা ভোক্তা অধিকারের পরিপন্থী।”

ক্যাব সভাপতি আরও বলেন, বর্তমানে বাজার তদারকিতে ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ অবৈধভাবে মজুত করে দাম বাড়ালে বিশেষ আইন প্রয়োগ এমনকি কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর বিধানও রয়েছে। ভোক্তাস্বার্থে সরকারের এই কঠোর আইনের প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts