.
খেলা

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় বিসিবিতে ক্রিকেটাররা: লিগ বাঁচাতে ৪ দফা দাবি

Email :38

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৭:২৯ বৃহস্পতিবার শীতকাল

মাঠের লড়াইয়ে থাকার কথা থাকলেও জীবিকা ও ক্যারিয়ার বাঁচানোর তাগিদে রাজপথে নামতে হয়েছে ঢাকার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটারদের। ঘরোয়া ক্রিকেটের অচলাবস্থা নিরসন ও সব দলের অংশগ্রহণে লিগ আয়োজনের দাবিতে আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন প্রায় অর্ধশতেরও বেশি ক্রিকেটার।

সব দলের অংশগ্রহণে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট আয়োজনের দাবি নিয়ে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে ক্রিকেটাররাশামসুল হক

আজ দুপুরে মিরপুরে প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন ক্রিকেটাররা। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল—‘ক্রিকেট বাঁচাও ক্রিকেট বাঁচাও’, ‘সবাই মাঠে খেলতে চাই’ এবং ‘৮৮০ জন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার কই?’ প্রায় আধা ঘণ্টা বিসিবির ২ নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা নিজেদের দাবি জানান।

বিসিবি কর্তাদের সাথে বৈঠক ও ৪ দফা দাবি
অবস্থান কর্মসূচি শেষে আন্দোলনরত ক্রিকেটারদের ১০-১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল বিসিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি নাজমূল আবেদীন এবং পরিচালক ইফতেখার রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁরা ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন।

ক্রিকেটারদের পক্ষে গত মৌসুমে খেলাঘরের হয়ে খেলা আসাদুজ্জামান দাবিগুলো তুলে ধরেন। তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. ঢাকা লিগের জন্য একটি অপরিবর্তনযোগ্য ও স্থায়ী সূচি ঘোষণা করা।
২. বিসিবি ও ক্লাবগুলোর মধ্যকার চলমান দ্বন্দের অবসানে লিগ আয়োজনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
৩. খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা ও ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা বিধানে ঢাকা লিগের শক্ত কাঠামো তৈরি করা।
৪. যদি সব ক্লাব লিগে অংশ না নেয়, তবে বিকল্প হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা। এছাড়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাচ ফি ও দৈনিক ভাতা বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়।

ক্লাব বনাম বিসিবি দ্বন্দ্বে বলির পাঁঠা ক্রিকেটাররা
আগামীকাল থেকে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে। বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের মোট ৪৩টি ক্লাব লিগ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বিভাগের ২০টি ক্লাবের ৮টিই দলবদলে অংশ নেয়নি।

চরম এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিসিবি আজ লিগের ট্রফি উন্মোচন করেছে। যেখানে ২০ দলের মধ্যে মাত্র ১২ দলের অধিনায়করা উপস্থিত ছিলেন। ক্রিকেটারদের দাবি, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক দ্বন্দের ভুক্তভোগী যেন মাঠের খেলোয়াড়রা না হন।

কোয়াবের ভূমিকায় হতাশা ও নতুন সংগঠনের ভাবনা
ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষা করার কথা ‘ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (কোয়াব)-এর। কিন্তু আজকের এই সংকটময় মুহূর্তে কোয়াবের কাউকে পাশে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রিকেটাররা। কোয়াবের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বা তাঁর কমিটির কাউকেই আজ ক্রিকেটারদের আন্দোলনে দেখা যায়নি।

আন্দোলনরত ক্রিকেটাররা শুরুতে নিজেদের কোয়াবের অংশ মনে করলেও, ভোটাধিকার না থাকায় এবং কোয়াবের নীরব ভূমিকার কারণে তাঁরা হতাশ। আসাদুজ্জামান জানান, কোয়াব হয়তো বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলা এড়াতে চাইছে, কিন্তু ক্রিকেটাররা নিজেদের অধিকার আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটাররা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে আলাদা একটি সংগঠন তৈরির কথাও ভাবছেন।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts