১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১১:৩৪ বৃহস্পতিবার শীতকাল
সিলেট–৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে দলীয় প্রতীকে নিজস্ব কোনো সংসদ সদস্য নেই বিএনপির। জোটের রাজনীতির ‘গ্যাঁড়াকলে’ পড়ে প্রতিবারই ধানের শীষ তুলে দিতে হয়েছে শরিক দলের হাতে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সেই পুরোনো সমীকরণের গুঞ্জন উঠতেই ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বিএনপি। তৃণমূলের সাফ কথা—ইসলামপন্থী দলের নেতাদের ‘ভোটব্যাংক’–এর মিথ ভেঙে এবার আর ছাড় দেওয়া হবে না; তারা চান বিএনপির নিজস্ব কাণ্ডারি।

ছবি: সংগৃহীত
জোটের সমীকরণ বনাম মাঠের বাস্তবতা
রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন, আগামী নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে বিএনপির জোট অটুট থাকলে, দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি জোটের প্রার্থী ছিলেন। তবে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, মাঠের চিত্র ভিন্ন। তাদের দাবি, ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোটব্যাংক থাকলেও তা বিএনপির চেয়ে বেশি নয়। বরং ধানের শীষের বিশাল ভোটব্যাংক ব্যবহার করে শরিকরা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাঠে যাদের জনসমর্থন নেই, কেবল জোটের দোহাই দিয়ে তাদের বারবার আসন ছেড়ে দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কর্মীরা এবার আর এটা মেনে নেবে না। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে ধানের শীষের প্রকৃত শক্তির প্রমাণ মিলবে।’
সিলেট–৫ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন ছাড়া বিএনপি এখানে দলীয় প্রার্থী নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ২০০১ ও ২০০৮ সালে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় জামায়াতে ইসলামীকে (ফরীদ উদ্দিন চৌধুরী), আর গত নির্বাচনে দেওয়া হয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে নিজস্ব নেতৃত্ব না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বিএনপির স্থানীয় কর্মীরা। তারা মনে করছেন, ইসলামপন্থী দলগুলো এখানে এতটাই বিভাজিত যে, বিএনপির সমর্থন ছাড়া তাদের নিজস্ব কোনো বড় শক্তি নেই। তাই এবার ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ আর করতে দিতে চান না তাঁরা।
এই আসনে আনজুমানে আল ইসলাহের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলীর অনুসারীদের বড় একটি প্রভাব রয়েছে। গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আল্লামা ফুলতলীর ছেলে মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর জয়লাভ সেটাই প্রমাণ করে। আগামীতে তিনি আবারও প্রার্থী হবেন, নাকি তার অনুসারীদের সমর্থন কোনো দলের দিকে যাবে—তা এখনো ধোঁয়াশা। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি যদি নিজস্ব শক্তিশালী প্রার্থী না দেয়, তবে ভোটের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মনোনয়ন দৌড়ে যাদের নাম
জোটের প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক ছাড়াও বিএনপির নিজস্ব প্রায় এক ডজন নেতা এবার মনোনয়ন দৌড়ে আছেন। এর মধ্যে চাকসু মামুন ছাড়াও আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান (পাপলু), আশিক উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী।
উবায়দুল্লাহ ফারুক অবশ্য নিজেকে জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মাঠেই আছি। জোটের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই সব পরিষ্কার হবে।’ তবে স্থানীয় বিএনপির বিদ্রোহী মনোভাব এবার হাইকমান্ডকে নতুন করে ভাবাবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
Analysis | Habibur Rahman
