১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ৪:২৯ বৃহস্পতিবার শীতকাল
ইংরেজি নতুন বছর ২০২৫-এর প্রথম দিন থেকেই দেশের স্থলবন্দরগুলোতে সেবা ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের সবকটি স্থলবন্দরের বিভিন্ন সেবার বিপরীতে মাশুল বা টোল ৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই বর্ধিত হার কার্যকর হবে বলে এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও কর, টোল ও বিভিন্ন সেবার বিপরীতে মাশুল সমন্বয় করা হয়েছে, যা যাত্রী সাধারণ এবং আমদানিকারক উভয়ের খরচের খাতায় বাড়তি চাপ যোগ করবে।
বেনাপোল বন্দরের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের পরিচালন ও গুরুত্ব বিবেচনায় এর মাশুল কাঠামো অন্যান্য বন্দরের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। বেনাপোল স্থলবন্দরের জন্য আলাদা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এই বন্দরে ২৭টি ভিন্ন ভিন্ন খাতের সেবার বিপরীতে মাশুল আদায় করা হয়, যার সবকটিতেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
বেনাপোল দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে আগে যেখানে মাশুল ছিল ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা, তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫২ টাকা ২৭ পয়সায়। পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১ জানুয়ারি থেকে বেনাপোল দিয়ে প্রবেশ করা বা বিদেশি বাস, ট্রাক ও লরির জন্য ১৮৪ টাকা ৭০ পয়সা গুনতে হবে, যা আগে ছিল ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা।
এছাড়া বেনাপোলে মোটরকার, জিপ, পিকআপ কিংবা থ্রি-হুইলারের মতো ছোট যানবাহনের প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা ৮২ পয়সা। মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের ক্ষেত্রে এই ফি ৩৬ টাকা ৯৫ পয়সা।
বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক খরচেও পরিবর্তন এসেছে। বেনাপোলে ট্রাক বা লরির ওজন পরিমাপের যন্ত্র (ওয়েট স্কেল) ব্যবহারের জন্য দিতে হবে ৮৮ টাকা ৬৫ পয়সা। ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ ফি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৫ টাকা ০৭ পয়সা। কোনো পণ্যবাহী যান যদি বন্দরের ইয়ার্ডে রাত্রিযাপন করে, তবে তার জন্য ১১১ টাকা ৪৯ পয়সা দিতে হবে। এছাড়া গুদামে পণ্য রাখার ভাড়াও সময়ের ব্যাপ্তির ওপর ভিত্তি করে আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে।
অন্যান্য স্থলবন্দরের চিত্র
বেনাপোল বাদে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরেও (যেমন- ভোমরা, সোনামসজিদ, হিলি, আখাউড়া ইত্যাদি) ৫ শতাংশ হারে মাশুল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বেনাপোলের তুলনায় এখানে কিছু ক্ষেত্রে টাকার অংক কিছুটা কম।
অন্যান্য স্থলবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্যও ফি ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা করা হয়েছে। পণ্যবাহী ভারী যান অর্থাৎ বাস, ট্রাক ও লরির ক্ষেত্রে প্রবেশ ফি ১৫১ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১৫৯ টাকা ২২ পয়সা হয়েছে।
সাধারণ স্থলবন্দরগুলোতে মোটরকার ও জিপের জন্য নতুন মাশুল ৯৫ টাকা ৫২ পয়সা। অন্যদিকে মোটরসাইকেল, স্কুটার, বেবি ট্যাক্সি ও থ্রি-হুইলারের জন্য ৪৭ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও মাশুলের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, বন্দরের আয়ের প্রধান উৎস হলো এই মাশুল বা টোল। প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রতিবছরই এই মাশুল সমন্বয় করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও ৫ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী বছরের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর হবে।
Analysis | Habibur Rahman